চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক পিয়ংইয়ং সফরে চীন ও উত্তর কোরিয়ার নেতারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্যে একটি ‘সুদূরপ্রসারী রূপরেখা’ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠকের পর গত সোমবার কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন উত্তর কোরিয়া সফরে যান শি জিনপিং । চীনের শীর্ষ নেতাদের জন্য এ সফর তুলনামূলকভাবে বিরল এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
এমন এক সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হলো, যখন উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ঘনিষ্ঠ। ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সহায়তা দিতে পিয়ংইয়ং ইতোমধ্যে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।
কেসিএনএ জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এবং শি জিনপিং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা দুই দেশের বন্ধুত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
দুই দিনের সফরে সি ও কিম ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় ক্যাডার প্রশিক্ষণ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে দলীয় নেতৃত্ব বিকাশ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন এবং একটি স্মারক বৃক্ষ রোপণ করেন। পরে কোরীয় যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও নিহত চীনা সেনাদের স্মরণে নির্মিত ‘ফ্রেন্ডশিপ টাওয়ার’-এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

স্ত্রী পেং লিয়ুয়ান ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সফরে যাওয়া শি জিনপিং কে পিয়ংইয়ংয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সফর শেষে কিম জং-উনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সি বলেন, উভয় নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গভীর আলোচনা করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অভিন্ন সমঝোতায় পৌঁছেছেন।
চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বৈঠক দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করা, যৌথ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শি জিনপিং ‘নতুন যুগে’ চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে কিম জং-উনের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। তিনি কূটনৈতিক, আইন প্রয়োগকারী এবং সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের বিশ্লেষক হং মিনের মতে, সামরিক তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে চীন উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং রাশিয়া থেকে প্রযুক্তি স্থানান্তরের অগ্রগতি সম্পর্কে সরাসরি মূল্যায়ন করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার সামরিক কাঠামোর ভেতরে রাশিয়াপন্থী ও চীনপন্থী প্রভাব কতটা কার্যকর রয়েছে, সে সম্পর্কেও বেইজিং তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে।


