বাংলা পঞ্জিকায় অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে ‘আদি নববর্ষ’ উদযাপন করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন হবে। শুক্রবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আল ইবনে মোহাম্মদ।
ঘোষিত সূচিপত্র অনুযায়ী, ডাকসুর আয়োজনটি মোট চারটি পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল দশটায় শুরু হবে প্রথম পর্ব ‘রঙতুলিতে নবান্ন’, যেখানে দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী এবং চারুকলার বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে জুলাই এবং নবান্ন থিমে ছবি আঁকবেন। দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হবে ‘আদি নববর্ষ আনন্দযাত্রা’, যা উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ। চারুকলার সহযোগীতায় আনন্দযাত্রার জন্য তিনটি মোটিফ তৈরি করা হয়েছে — জুলাই, জেলে জীবন এবং কৃষি জীবন — এছাড়াও গ্রামীণ জীবনের নানা দিকের উপস্থাপনাও থাকবে।
তৃতীয় ও চতুর্থ পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হবে। এই পর্বে বিপ্লবী সাংস্কৃতিক ঐক্যের সদস্য সংগঠনগুলো আবৃত্তি, নাচ, গান এবং জাদু পরিবেশন করবে এবং অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশবরেণ্য শিল্পীরা সঙ্গীত ও পালাগান পরিবেশন করবেন। অনুষ্ঠান রাত দশটা পর্যন্ত চলবে।
মুসাদ্দিক আল ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘দেশজ সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম অনুসঙ্গ হলো নববর্ষ উদযাপন। যা বর্তমানে পহেলা বৈশাখ হলেও এককালে ছিল পহেলা অগ্রহায়ণ।’
তবে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্ম আজ ভুলতে বসেছে, এককালে পহেলা অগ্রহায়ণই ছিল এ অঞ্চলের মানুষের নববর্ষ। প্রজন্মকে সেই ইতিহাস মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা নবান্ন উৎসবকে আদি নববর্ষ উৎসব নামে উদযাপন করার উদ্যোগ নিয়েছি।’
তার মতে, ‘সম্রাট আকবরের সময় থেকে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বৈশাখ মাসকে বাংলা বছরের প্রথম মাস হিসেবে প্রচলন করা হয়। কিন্তু বৈশাখকে বছর শুরুর মাস আর পহেলা বৈশাখকে বছরের প্রথম দিন হিসেবে বাংলার মানুষ উদযাপন করেনি।’
মুসাদ্দিক আরও দাবি করেন, ‘রবীন্দ্রনাথের হাত ধরে পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সূচনা হয় উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে। পরে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ব্যবস্থা করেন। কলকাতার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারেও এভাবে ধীরে ধীরে পহেলা বৈশাখ সম্পর্কে কিছু উৎসাহ-উদ্দীপনার খবরাদি পাওয়া যায়। ১৯৬৭ সালে এই বাংলায় প্রথম পহেলা বৈশাখ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাকিস্তানি শাসকরা এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করায় এন্টি পাকিস্তানি মানসিকতার বাঙালীর কাছে পহেলা বৈশাখ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।’
মুসাদ্দিক বলেন, ‘বাংলা বছরের পঞ্জিকায় যে ১২টি মাস আছে, তার মধ্যে ১১টিই নক্ষত্রের নামে। এ ক্ষেত্রে ‘বৈশাখ’ বিশাখা নক্ষত্রের নামে, ‘জ্যৈষ্ঠ’ জ্যৈষ্ঠ নক্ষত্রের নামে, ‘আষাঢ়’ আষাঢ়ের নামে এবং এভাবে শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র যথাক্রমে শ্রবণা, পূর্বভাদ্রপদা, অশ্বিনী, কৃত্তিকা, পৌষী, মঘা, ফাল্গুনী ও চিত্রার নামে। যে মাসটি নক্ষত্রের নামের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, সেটি হলো অগ্রহায়ণ; আর এই নামটির সঙ্গেই মিশে আছে বাংলার কিছু ইতিহাস, কিছু স্মৃতি এবং কিছু বিস্মৃত হয়ে যাওয়া তথ্য।’


