মার্কিন সেনা হত্যা করলে ইরানকে বহুগুন মূল্য দিতে হবে : ট্রাম্প

মার্কিন সেনা হত্যা করলে ইরানকে বহুগুন মূল্য দিতে হবে : ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি/বাসস
Advertisement
Advertisement

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে একাধিক মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর ইরানকে এর ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটি মার্কিন বাহিনীর জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী সময়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রয়টার্সের খবরে জানা যায়, গত সপ্তাহে নিহতের ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আরও একজন সেনার উদ্ধার হওয়া মরদেহের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে দুজন জর্ডানে মার্কিন সামরিক সদস্যদের লক্ষ্য করে ইরানের হামলায় প্রাণ হারান।

সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান যখনই কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা করবে, সেই হত্যার মূল্য তাদের বহু গুণ বেশি দিতে হবে।’ তিনি আরও জানান, এ সংক্রান্ত নির্দেশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইনকে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মার্চ মাসে কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবার একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের একটি ড্রোন আঘাত হানলে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন।

এ পর্যন্ত যুদ্ধে প্রায় ৪৩০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ৭ জুলাইয়ের পর থেকে ১০০ সেনা আহত হয়েছেন, তবে তাদের ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। তবে এই ১০০ জন আগের ৪৩০ জনের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত কি না, তা স্পষ্ট নয়।

সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির পর ৭ জুলাইয়ের দিকে সংঘাত আবার তীব্র আকার ধারণ করে। ওই সময় ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের পাল্টা হামলা বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুন

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নিহত সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে ডেলাওয়্যারের ডোভার বিমানঘাঁটিতে আয়োজিত ‘ডিগনিফায়েড ট্রান্সফার’ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ট্রাম্প পেন্টাগনকে ঠিক কী ধরনের নির্দেশ দিয়েছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, জর্ডানে প্রাণঘাতী হামলার আগেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান, ফাইটার জেট এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার মোতায়েন শুরু করেছিল।

মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জো কেন্ট সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করা কেন্ট এক্সে লেখেন, ‘আরও বড় ধরনের প্রাণহানির আগেই আমাদের সেনাদের ফিরিয়ে আনুন। এই উত্তেজনার ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

গত এক সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানে হামলার লক্ষ্যবস্তু আরও সম্প্রসারণের হুমকি দিয়েছেন। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে জ্বালানি স্থাপনা, সেতু, ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল রপ্তানি কেন্দ্র দখল এবং গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ হামলার কথাও উঠে এসেছে।

রয়টার্সের সূত্রগুলো জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও জটিল সামরিক অভিযান পরিচালনার আগে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাও এসব হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য।

চলমান যুদ্ধ এবং এর বিপুল আর্থিক ব্যয় মঙ্গলবার কংগ্রেসে অনুষ্ঠিত এক শুনানির প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে। সেখানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইন উপস্থিত থাকবেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad