ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত।
রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত মামলার সংক্ষিপ্ত রায় পড়ে শোনানোর সময় এ কথা বলেন।
সোহেল রানার জবানবন্দির বরাতে আদালত জানায়, সোহেল রানা ধর্ষণ করলে অজ্ঞান হয়ে যায় রামিসা। পরে তাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়। লোক জানাজানি হয়ে গেলে তার স্ত্রী স্বপ্না এসে তাকে পালাতে সাহায্য করেন।
বিচারক আরও জানান, আসামি সোহেল রানাকে জোরপূর্বক কিংবা প্রলোভন দেখিয়ে দোষ স্বীকার করানো হয়নি। তিনি নিজেই দোষ স্বীকার করায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে স্বপ্না খাতুন স্বামীর অপরাধে সহায়তা করেছেন বলে প্রমাণ মিলেছে এবং তিনি নিজেও সোহেল রানাকে গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। ঘটনার সময় তিনি ওই বাসার ভেতরেই ছিলেন।
পর্যাপ্ত সুযোগ থাকার পরও না আটকিয়ে আসামিকে পালাতে সহযোগিতা ও হত্যার সময় উপস্থিত থাকায় আসামি স্বপ্না খাতুন একই অপরাধের শামিল বলে মনে করে আদালত।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হয়। তখন স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। পরে রামিসার বাবা-মা ও অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। শিশুটির মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে রাখা ছিল।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন।


