ঢাবির হল ছাড়ার নির্দেশে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ঢাবির হল ছাড়ার নির্দেশে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
সকাল থেকেই হল ছাড়তে শুরু করেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ১৪ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের রোববার বিকাল ৫টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক শিক্ষার্থী।

সকালে ঢাবির হল ছাড়ার নির্দেশনায় ভোগান্তির বিষয়ে কথা হয় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তারা বলছেন, বাধ্যতামূলকভাবে হল ছাড়ার নির্দেশ অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।

হল ছাড়তে অনাগ্রহী অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আছিয়া আক্তার রেমিজা। তিনি বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থীর হল ছাড়া কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। যাদের বাড়ি শহরে তাদের জন্য হলই বেশি নিরাপদ কেননা হলের সামনে খোলা মাঠ আছে, শহরের বাড়িগুলোতে সেটাও নেই।’

বাধ্যতামূলক হল ছাড়ার নির্দেশে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থীর জন্য টিউশনি ও চাকরির কারণে হঠাৎ হল ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই ছুটিতে যাদের ইচ্ছা হলে থাকবে, যাদের ইচ্ছা বাড়ি চলে যাবে। এমনটাই হওয়া উচিত।’

বাড়ির উদ্দেশে বের হওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাস পরীক্ষা স্থগিত থাকায় তারা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ভোর ৫টা ১৭ মিনিটেও তিনজন নারী শিক্ষার্থীকে বাসার পথে রওনা দিতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন

বাড়ির উদ্দেশে বের হওয়া ঢাবির শিক্ষার্থীরা। ছবি: টাইমস

হল ছাড়ার নির্দেশকে ‘মানবিক সিদ্ধান্ত’ মন্তব্য করে মহসিন হল প্রাধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মতো তাদের অভিভাবকরাও ভীষণ উদ্বিগ্ন। তাই বিকাল ৫টার মধ্যেই সবাইকে হল ছাড়তে বলা হয়েছে।’

এ ছাড়া প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকল শিক্ষার্থীকে অবশ্যই বিকেল ৫টার মধ্যে হল ছাড়তে হবে। হলগুলোর সব ধরনের সার্ভিস বন্ধ থাকবে।

ঢাবির পরিবহন ম্যানেজার কামরুল হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে প্রায় সব রুটে ট্রিপ সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তবে সোমবার থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনও বাস সার্ভিস চালু থাকবে না।’

এ সময় ঢাকা ছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোতে যাতায়াতের সুবিধার্থে ডাকসুর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।

শনিবার রাতে আকস্মিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ১৪ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে এবং আবাসন নিশ্চিত করা ও হল বন্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিতের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে রাতভর অবস্থান করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, শনিবার সন্ধ্যায় এক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুইবার ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল ঢাকার বাড্ডা এলাকা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad