বহুল আলোচিত ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অবশেষে ৬টি বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সেগুলো হলো—ফাস ফাইন্যান্স, বিআইএফসি, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। আর বাড়তি সময় পাচ্ছে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) নামে ৩টি প্রতিষ্ঠান।
আর্থিক সূচকে উন্নতি দেখাতে এসব প্রতিষ্ঠানকে তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া আন্ত:লেনদেন প্ল্যাটফর্ম বিনিময়ের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে পর্ষদ। এর বদলে গেটস ফাউন্ডেশনের আইআইপিএস এর সঙ্গে চু্ক্তি করার বিষয়ে পর্ষদ অবহিত হয়েছে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তির পথে এগোবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলো অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে অবসায়ন প্রক্রিয়ার আগে গত সপ্তাহে এসব প্রতিষ্ঠানের শুনানি নেওয়া হয়, যা রোববার শেষ হয়েছে।
শুনানিতে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করে। সেগুলো পর্যালোচনা করে তিন প্রতিষ্ঠানকে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক, যা বোর্ড অনুমোদন করেছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আগের সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ভেঙে পড়ে। পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, অবসায়নের পথে থাকা ৯টি রুগ্ন এনবিএফআইয়ের ব্যক্তি আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পদ মূল্যায়ন শুরু হবে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে শেয়ারহোল্ডাররা কোনো অর্থ পাবেন কি না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। তবে আমানতকারীরা কেবল তাদের মূল অর্থ ফেরত পাবেন, কোনো সুদ দেওয়া হবে না।


