গণঅভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।
সোমবার অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জবানবন্দি গ্রহণ করে।
তৃতীয় দিনে জবানবন্দি গ্রহণ অসমাপ্ত থাকা অবস্থায় শুনানি ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এ মামলায় বেরোবির সাবেক উপাচার্য (ভিসি) হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামি। তবে সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন ছয় জন। ২৫তম সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ৩০ আসামির ব্যক্তিগত দায় উল্লেখ করেন।
তিনি এ মামলার তদন্তের সময় জব্দ করা ভিডিওর বিষয়ে আদালতে তথ্য দেন। আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড ঘিরে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ইউটিউব বা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত বিবিসি বাংলা, আল জাজিরাসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী খবর-প্রামাণ্যচিত্র কোথায় থেকে কীভাবে সংগ্রহ করেছেন, এ সম্পর্কে জানান তিনি।
এরপর প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৬ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, সহিদুল ইসলাম সরদার ও শেখ মইনুল করিম।
গত ১৮ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি গ্রহণ শুরু হয়। ২৮ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দিনের জবানবন্দি গ্রহণ করে আদালত। জবানবন্দি শেষে আসামিদের আইনজীবীরা তাকে জেরা করবেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। সাবেক ভিসিসহ বাকি ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক।
উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশন সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে। ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়। ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। পলাতক আসামিদের পক্ষে ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


