সড়ক নিরাপত্তা জোরদার ও দক্ষ চালক তৈরি করতে ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কপোরেশন (বিআরটিসি) এর মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বুধবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক।
চুক্তিতে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের পক্ষে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সাব্বীর হাসান খান এবং বিআরটিসির পক্ষে চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল লতিফ মোল্লা স্বাক্ষর করেন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট-বাংলাদেশ পুলিশ, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিসেস (ডিজিএইচএস) ও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ব ব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সড়ক নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিকে বেগবান করা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প’ গ্রহণ করে। প্রকল্পটি ১৮ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ও গুরুতর আঘাতের সংখ্যা কমানো এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানো। এ লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সেফ স্টেম অ্যাপরোচ পাইলটভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যেখানে দক্ষ চালক দ্বারা নিরাপদ যানবাহন চালনা একটি প্রধান স্তম্ভ।
এই কর্মসূচির আওতায় চার মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৪০ হাজার নতুন দক্ষ চালক তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ২০ হাজার পেশাদার চালককে সড়ক নিরাপত্তা, পথচারীদের অধিকার এবং উন্নত চালনা কৌশল বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ফলে মোট ৬০ হাজার চালক প্রশিক্ষণ পাবেন।
প্রকল্পের এই প্যাকেজটি ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে অনুমোদন পায়। প্যাকেজ অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেবে সরকারি সংস্থা বিআরটিসি, যা সারা দেশের ২৭টি বিআরটিসি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও সেন্টারে পরিচালিত হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু দক্ষ চালক তৈরি নয়, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং বেকারত্ব হ্রাসেও অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।


