সিডনির কমনওয়েলথ স্টেডিয়ামে শুক্রবার উত্তর কোরিয়ার একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ তছনছ হয়ে যাচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু গোলপোস্টের নিচে জাল আগলে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক অকুতোভয় সেনানী, মিলি আক্তার। স্কোরবোর্ড বলছে বাংলাদেশ ৫-০ গোলে হেরেছে, কিন্তু এই ব্যবধানটা দ্বিগুণ হতে পারতো যদি না গ্লাভস হাতে মিলি অতিমানবীয় সব সেভ না করতেন। ৫ গোল হজম করেও ম্যাচ শেষে তাই বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারের সবটুকু মুগ্ধতা কেড়ে নিয়েছেন এই তরুণ গোলরক্ষক।
ম্যাচের শুরু থেকেই কোরিয়ানদের প্রেসিং ফুটবলের সামনে কোণঠাসা ছিল বাংলাদেশ। একের পর এক শট আসছিল গোলমুখে। অন্তত ১০টি নিশ্চিত গোলের শট নিয়েছিল উত্তর কোরিয়া, যার ৫টিই মিলি রুখে দিয়েছেন অবিশ্বাস্য দক্ষতায়। গ্যালারি থেকে শুরু করে ধারাভাষ্য কক্ষ, সবখানেই আজ মিলির বীরত্ব নিয়ে আলোচনা। এর আগে চীনের বিপক্ষেও আটটি সেভ করেছিলেন তিনি। অভিজ্ঞ রূপনা চাকমাকে বসিয়ে মিলিকে খেলানোর যে ফাটকা বাটলার খেলেছিলেন, তার প্রতিদান মিলি দিচ্ছেন নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাটলারের কণ্ঠে ঝরল মিলির প্রতি অগাধ বিশ্বাস। কোচ বললেন, ‘মিলি আসলে জাত লড়াকু, মাঠের এক সত্যিকারের সৈনিক। ওর জীবনসংগ্রাম আর পটভূমি যদি দেখেন, তবে জীবনের প্রতি ওর এই জেদ আর উদ্দীপনাকে আপনার সম্মান জানাতেই হবে। ওর মতো একজনের সঙ্গে কাজ করাটা আনন্দের। ও এই সুযোগটা পাওয়ার যোগ্য ছিল এবং ওর জন্য আমার ভেতরে কেবল প্রশংসাই জমা রয়েছে।’
তবে মাঠের বাস্তবতা ছিল রূঢ়। উত্তর কোরিয়ার গতি আর শারীরিক শক্তির কাছে তহুরা-ঋতুপর্ণারা আজ তেমন কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেননি। বাটলারও লুকালেন না সেই পার্থক্যের কথা, ‘মাঝে মাঝে ও (মিলি) প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছে। সত্যি বলতে, এশিয়ান কাপের এই লেভেলে আমাদের গোলকিপিং পজিশনটা একটা দুর্বল জায়গা ছিল। কিন্তু মিলির ভবিষ্যৎ দারুণ উজ্জ্বল। ওকে শুধু কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে আর মাটিতে পা রেখে চলতে হবে। এখনই খুব বেশি হাওয়ায় ভাসা যাবে না।’
উত্তর কোরিয়ার ফুটবলারদের মান নিয়ে কোচের অকপট স্বীকারোক্তি, ‘ওদের ফুটবলাররা যে লেভেলে খেলে, সেটা অসাধারণ। ওরা এমন অ্যাথলেট যাদের খেলা দেখার জন্য আপনি অনায়াসেই টিকিটের টাকা খরচ করবেন। আমার মতে, ওরা এই টুর্নামেন্ট জেতার ক্ষমতা রাখে। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে, আমরা এখনো ওই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি।’
সব হারিয়েও দমে যাচ্ছেন না বাটলার। ৯ মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিতে চান তিনি। বাটলারের সোজাসাপ্টা কথা, ‘মেয়েরা আইস বাথ নিয়ে শরীরটা একটু ঝালিয়ে নেবে, তারপর আমরা পার্থের বিমান ধরব। আমরা আবারও হাসিমুখে লড়ব এবং নিজেদের সেরাটা দেব। সেটুকুই যদি যথেষ্ট হয় তবে ভালো, আর না হলেও জীবন তো আর থেমে থাকে না।’


