দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আরও ৪৫ জনকে পুশ ইন ও ২৭ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বুধবার সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এসব পুশ ইন ও ফেরতের ঘটনা ঘটে।
ইউএনবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পঞ্চগড়ে ২৩ জন, লালমনিরহাটে ৯ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৮ জন এবং মেহেরপুরের সীমান্ত দিয়ে ৫ জনকে পুশ ইন করা হয়েছে। অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গায় ২২ জন ও জয়পুরহাটে পাঁচ বাংলাদেশিকে বিজিবির সঙ্গে বৈঠকের পর ফেরত পাঠিয়েছে বিএসএফ।
পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা ২৩ জনের মধ্যে ১৩ জন নারী, নয় জন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে। বুধবার ভোরে সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে তাদের ঠেলে দেয় বিএসএফ। পরে ঘাগড়া বিওপির টহল দল তাদের আটক করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পুলিশ তাদের পরিচয় যাচাই করছে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন করা নয় জনের মধ্যে চার জন পুরুষ, তিন জন নারী ও দুই শিশু রয়েছে। ভোরে তিস্তা ব্যাটালিয়ন-২ (৬১ বিজিবি)-এর একটি টহল দল বুড়িমারী সীমান্ত এলাকার মাছিরবাড়ি থেকে তাদের আটক করে।
এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আট জন এবং মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর সীমান্ত দিয়ে চার জনকে পুশ ইন করা হয়।
অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকে বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকারী ২২ বাংলাদেশিকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
দুপুর ১২টার দিকে সীমান্তের মেইন পিলার ৭৬-এর কাছে শূন্যরেখায় এ বৈঠক হয়। ফেরত আসাদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ১২ জন নারী রয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ ও হায়দ্রাবাদের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্তে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে ফেরত পাঠিয়েছে বিএসএফ। দুপুরে উপজেলা কয়া সীমান্তের ২৭১/৫৪ নম্বর পিলার এলাকায় বিএসএফ তাদের বিজিবির হাতে তুলে দেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, ২০২০ সালে ভারতের কেরালা রাজ্যের এন্নাকুলাম এলাকায় একটি ভাঙাড়ি দোকানে দিনমজুরের কাজ করতে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি দেশে ফেরার পথে বিএসএফ তাদের আটক করে।
পাঁচবিবি থানার ওসি ময়নুল ইসলাম জানান, ‘বিজিবি পাঁচজন নারী-পুরুষ ও শিশুকে থানায় জমা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ভারতে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার সময় বিএসএফ তাদের আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে দেওয়া হবে।’


