মহসিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়বৈশাখের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস। বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে শিক্ষার্থীদের পদচারণা, রঙ-তুলির ছোঁয়া আর সাজসজ্জায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুরো পরিবেশ। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ক্যাম্পাসে ফিরে চারুকলা ইন্সটিটিউটের অংশগ্রহণে এবারের আয়োজন পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা, যা যোগ করেছে বাড়তি উৎসব আমেজ।
‘এসো প্রাণের উৎসবে জাগো নব আনন্দে’ স্লোগানে আয়োজিত বৈশাখের প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় ক্যাম্পাসজুড়ে টানা কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা। কেউ আলপনায় শেষ রঙের ছোঁয়া দিচ্ছেন, কেউ আবার ব্যস্ত নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে। পাখি, ঘোড়া, মাছ ও নানান লোকজ শিল্পের মোটিফে সূক্ষ্ম কারুকাজে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে বৈশাখের ঐতিহ্যবাহী রূপ।

একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে দেখা গেছে সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রস্তুতিও। বসেছে মেলার দোকান। থাকছে পুতুল নাচ কাবাডি, বউচি খেলা, বলী খেলাসহ নানান আয়োজন।
চারুকলা ইন্সটিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে ফিরে এমন আয়োজনে সরাসরি যুক্ত হতে পেরে তারা নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করছেন।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘চারুকলার ক্যাম্পাসে যাত্রার শুরু থেকে আমরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাসে ক্লাস শুরু করেছি। ক্যাম্পাসে বৈশাখের কাজ করতে পেরে আমাদের খুব ভালো লাগছে। সিনিয়রদের সাহায্য করার মাধ্যমে তাদের থেকে শিখছি। অনেক ভালো লাগছে।’

দীর্ঘদিন শহরকেন্দ্রিক আয়োজনের পর এবার ক্যাম্পাসে ফিরে নিজেদের মতো করে বৈশাখ উদযাপনের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, ‘শহরে থাকতে আমরা অনুষ্ঠানগুলো শহরের সবাইকে নিয়ে করতাম, আর এখন ক্যাম্পাসে এসে অন্যভাবে করছি। নিজেদের ক্যাম্পাসে ফিরে বাঙালি প্রাণের উৎসব বৈশাখ পালন অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছে। চারুকলা ইন্সটিটিউট এসব আয়োজন করেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য। এখন আমরা আমাদের বৈশাখ পালন করতে পারব এটার অনুভূতি অন্যরকম।’
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইশরাত জান্নাত ইশা বলেন, ‘আমরা ছয় থেকে সাত দিন ধরে কাজ করছি। সবাই মিলে কাজ করায় কাজে আনন্দ পাচ্ছি। কাজ প্রায় শেষের দিকে, যে সময় আছে সেসময়ের মধ্যেও বাকি কাজ শেষ করে ফেলতে পারব।’

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির ব্যস্ততায় শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে শোভাযাত্রা ও অন্যান্য আয়োজন সম্পন্নের কাজে যুক্ত রয়েছেন।
শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেল সংসদের ভিপি খন্দকার মাসরুল আল ফাহিম বলেন, ‘আজ বৈশাখের শোভাযাত্রা এবং অন্যান্য সকল কাজের শেষ প্রস্তুতি চলছে। সবাই দিন-রাত পরিশ্রম করে ব্যস্ত সময় পার করছি। আমাদের সব কাজ গোছানো। রাতে ক্যাম্পাসের আলপনার কাজটি করব।দীর্ঘ ১৫ বছর পর চারুকলা ইন্সটিটিউট ক্যাম্পাসে ফিরেছি আশাকরি সবার সঙ্গে উৎসবমুখর পরিবেশে এবারের বৈশাখ উদযাপন করব।’
নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা প্রসঙ্গে চারুকলা ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার আয়োজনকে আরও সমন্বিত ও বর্ণাঢ্যভাবে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চারুকলা ইন্সটিটিউটের পরিচালক তাসলিমা আকতার বলেন, ‘চারুকলা ইনস্টিটিউট এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় একত্র হয়ে নববর্ষ উদযাপন করছে। লোকজ পাখি, লোকজ ঘোড়া ইলিশ মাছ এগুলো আমাদের র্যালিতে থাকবে। এ ছাড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সারা দিনব্যাপী নানান ধরণের আয়োজন আছে পুরো চত্বরে।
নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের দিন ৫০ জন পুলিশ সদস্য, ৪০ জন বিএনসিসি ও ১০ জন রোভার স্কাউট উপস্থিত আইনশৃঙ্খলার জন্য থাকবেন। এদিন বহিরাগত কোনো গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না।

‘উৎসবের শৃঙ্খলা রক্ষায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কার নিয়ে ক্যাম্পাসে না আসার অনুরোধ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তার প্রক্টর অফিস ও প্রশাসনের নির্ধারিত সাতটি গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে আসার সুবিধার্থে ই-কার, রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশা নির্দিষ্ট সীমানা পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারবে।’


