‘তারা বলত, আপনাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে’

‘তারা বলত, আপনাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে’
আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) পরিচালিত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার বা জেআইসিতে একসময় বন্দিজীবন কাটানো অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমীকে আসামিপক্ষের জেরা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেরায় তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের ৬ জুন গুরুতর অসুস্থ হয়ে আমি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিলাম। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে ২১ ফুটের সেই কক্ষে এসি লাগানো হয়। তারা বলত, আপনাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জেরা করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, শাইখ মাহদী, আবদুস সাত্তার পালোয়ান। পরবর্তী জেরার জন্য আগামী ২১ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেরায় প্রশ্নের মাধ্যমে বিভিন্ন জবাব বের করার চেষ্টা করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। এর মধ্যে কীভাবে গুম হয়েছিলেন, কোথায়, কী ধরনের কক্ষে তাকে রাখা হয়েছিল, সেনাবাহিনী থেকে কোনো ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন কি না; এ সবের বিষয়ে তথ্য বের করার চেষ্টা করেন আইনজীবী।

গুমের জন্য সেনাবাহিনী থেকে আযমী ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন বলে দাবি করেন আইনজীবী দুলু। জবাবে আযমী দাবি করেন, এমন কোনো ক্ষতিপূরণ তিনি পাননি।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ‘আমার চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন সেনাপ্রধানের ডেপুটি মিলিটারি সেক্রেটারি। বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে অবসর প্রদানের আদেশে কে স্বাক্ষর করেছেন, তা মনে নেই। বরখাস্তের আদেশ বাতিলের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কোনো আবেদনও করিনি।’

গুম থেকে মুক্তির পর কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন কি না, এমন প্রশ্নে হ্যাঁ সূচক জবাব দেন আযমী।

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের আগস্টের শেষ দিকে গুমের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি পেশ করেছিলাম। কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে কার কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই।’

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বর্তমান ও সাবেক ১২ জন সেনা কর্মকর্তা এ মামলায় আসামি। এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।

জেআইসিতে গুমের ঘটনায় আসামিরা হলেন শেখ হাসিনা, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজহার সিদ্দিকী। এদের মধ্যে শেশের তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad