যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারসংক্রান্ত চুক্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কেন্দ্রে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন পারমাণবিক চুক্তির কোনো প্রভাব পড়বে কি না–এমন প্রশ্নে জাহেদ বলেন, ‘আমি মনে করি না পড়বে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ মাত্র পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশ করেছে। ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প খোলা রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আরও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে কি না, সে বিষয়টিও এখনই বন্ধ করে দেওয়ার মতো নয়।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে শুধু কেন্দ্র নির্মাণ নয়; জ্বালানি সরবরাহ, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট জনবলের প্রশিক্ষণসহ অনেকগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। এসব বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি ও সহযোগিতা হতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই একটি কাজ শুরু থেকে করেছে। রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংকট থাকলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা বজায় রাখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীন, ভারত, রাশিয়া ও তুরস্কসহ যার সঙ্গে প্রয়োজন, বাংলাদেশের সেই দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা থাকবে।
জাহেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ তার স্বার্থে যেখানে যেখানে প্রয়োজন, চায়নার সঙ্গে, ইন্ডিয়ার সঙ্গে, এই যে রাশিয়ার কথা বললাম, টার্কি–যার যার সঙ্গে প্রয়োজন বাংলাদেশ এনগেজমেন্ট করবে। এটা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে বলে আমি আসলে মনে করি না।’
এদিকে রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম আসার কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে জটিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।


