বিশ বছরের আগের শিট অনুসারে শিক্ষকদের পড়ানো উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
শনিবার সকালে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত ‘দ্য রোল অব একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশন: রিসার্চ এক্সিলেন্স, ইনোভেশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে শিল্পখাতের সঙ্গে যুক্ত করা বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। শিল্পের বাস্তব চাহিদা ও সমস্যাকে গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলে গবেষণার ফলাফল আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।’
এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে এবং শিক্ষার্থীদের শিল্পমুখী দক্ষ করে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন চত্বরে এ সেমিনার ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে দেশের পাঁচটি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৃথক পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস, রুপল ইন্টিগ্রেট, ডাটা সফট ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলি ইনক্ লিমিটেড, ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই সমঝোতার ফলে জাবিপ্রবি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং শিল্পসম্পৃক্ত শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন সহযোগিতার পথ উন্মোচিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আমির হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ প্রামাণিক এবং জাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী হোসেন।
আব্দুল মজিদ প্রামাণিক তার বক্তব্যে বলেন, ‘গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফলাফল মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ জরুরি।’
অন্যদিকে, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী হোসেন জানান, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তি স্থানান্তর সহজ হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য মো. আমির হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্প ও সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নবীন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ইন্ডাস্ট্রির চাহিদা ও স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী গবেষণা পরিচালনা করা হলে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বাড়বে।’
জাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম করে ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশে সাফল্যের ছাপ ফেলছে উল্লেখ করে তিনি যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নের আশা ব্যক্ত করেন এবং জানান জাবিপ্রবিতে একাডেমিয়া–ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতার একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তুলতে পর্যায়ক্রমে আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক তোহফা মাহানূর এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ বিষয়ের প্রভাষক বেলাল হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। মূল আলোচনার পাশাপাশি গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও শিল্পভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ কথা বলেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘তারুণ্যের ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা অতিথিদের সামনে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া নিয়ে তাদের নিজস্ব নানা পরিকল্পনা ও ভাবনা তুলে ধরেন এবং সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।


