শুধু বাইরের আবর্জনা নয়, উদীয়মান নেতাদের মনের আবর্জনাতেও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, এতে দেশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসিতে ‘ক্লিনিং ডে’ শীর্ষক পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান উদ্বোধন করে তিনি একথা বলেন। ‘পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস করি, প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘১৭ বছর পরে আমরা গণতান্ত্রিক পথে হাঁটা শুরু করেছি। এখনই এই সরকারকে ফেলে দেওয়ার সময় আসেনি। এখনই এক দফায় যাওয়ার মতো সময় আসেনি, ধৈর্য ধরেন। আজকে শুধু বাইরের আবর্জনা নয়, উদীয়মান নেতাদের মনের আবর্জনাও তারা যেভাবে উগলে দিচ্ছে, তাতেই পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দেশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাদেরকেও বলব ধৈর্য ধরতে।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবসময় পথ দেখিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাই আজকের বাংলাদেশের এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে ঢাবির শিক্ষক ও ছাত্রদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ ভিশনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আমরা ২০০ ডাস্টবিন এখানে দিয়েছি। প্রয়োজনে আরও দেব। কিন্তু কোনো ময়লা যাতে কোনো ছাত্র-ছাত্রী রাস্তায়, টিএসসির সামনে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে না ফেলে, সেই বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে। ময়লা পরিষ্কারের জন্য ভিসি সাহেব যদি চান দরকার হলে আমরা পার্মানেন্ট কিছু কর্মী দেব।’
ক্যাম্পাসের টিএসসি, শাহবাগ ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ভাসমান হকারদের নিয়ন্ত্রণের ওপরও জোর দেন তিনি। প্রশাসনকে হকারদের নির্দিষ্ট তালিকা করে আইডির আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘শহীদ মিনার আমাদের ঐতিহ্যের ও গর্বের জায়গা। কোনোভাবেই আমরা চাইতে পারি না যে এই জায়গাটা অপরিচ্ছন্ন থাকুক।’
অনুষ্ঠানে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের নিজেদের জায়গা থেকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করে বলেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে জাপান থেকে ৩০ জনের একটি দল ঢাকা শহর পরিষ্কার করার জন্য আসবে। এটি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের যে, বহির্বিশ্ব জানে পরিচ্ছন্নতার দিক দিয়ে আমরা পিছিয়ে আছি।’
যত্রতত্র ময়লা না ফেলার বিষয়ে উপাচার্য আরও বলেন, ‘ঢাবিতে কোনো অনুষ্ঠান শেষে যেন এক টুকরো পলিথিন, টিস্যু বা বাদামের খোসাও পড়ে না থাকে, সেই দায়িত্ব আমাদের সবার নিতে হবে।’


