দেশের মানুষের বাস্তব সমস্যা সমাধানে গবেষণার গুরুত্ব বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।
তিনি বলেন, গবেষণার জন্য বয়স, দামি যন্ত্রপাতি কিংবা বড় ল্যাবরেটরি অপরিহার্য নয়। নিজের চারপাশের সমস্যা চিহ্নিত করে হাতের কাছে থাকা উপকরণ দিয়ে সমাধানের চেষ্টা থেকেই গবেষণার শুরু হতে পারে।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ‘খুদে গবেষক সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির ৩১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তারা ১২৮টি গবেষণাপত্র, ধারণাপত্র ও পোস্টার উপস্থাপন করে।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, গবেষণা শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শুরু হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। খুদে গবেষকেরাও শিক্ষা, বিজ্ঞান, পরিবেশ, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছে। তারা নিজেদের চারপাশের সমস্যা চিহ্নিত করে চিন্তাশক্তি ও হাতের কাছে থাকা উপকরণ দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছে।
গবেষণায় শিক্ষার্থীদের সাহস, উদ্দীপনা, অনুসন্ধিৎসু মনোভাব ও বৈজ্ঞানিক চিন্তার ওপর গুরুত্ব দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তার মতে, সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি তার সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই গবেষণার মূল বিষয়।
দেশের গবেষণা কার্যক্রমের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত পাঁচ দশকে সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গবেষণায় বিপুল অর্থায়ন করেছে। অনেক গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের সাইটেশনও হয়েছে। তবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেক সমস্যা এখনো সমাধান হয়নি।
তিনি বলেন, ‘গবেষণাপত্র তৈরি হয়েছে, আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে, সাইটেশনও হয়েছে। কিন্তু মানুষের যে বাস্তব সমস্যা, অনেক ক্ষেত্রে সেই সমস্যা থেকেই গেছে।’
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুনির্দিষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করে গবেষণা করতে হবে। গবেষণার লক্ষ্য হওয়া উচিত এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান বের করা।
তিনি আরও বলেন, গবেষকেরা নির্দিষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব দিলে ইউজিসি অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করবে। গবেষণার মাধ্যমে বাস্তবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
দেশের যানজট, বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও লবণাক্ততার মতো সমস্যার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক মামুন বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীদের এগিয়ে আসতে হবে। আজকের খুদে গবেষকদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের বিজ্ঞানী তৈরি হবে বলে আশাবাদ জানান তিনি।
খুদে গবেষকদের উদ্দেশে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘তোমরাই আমাদের চারপাশের সমস্যার সমাধান করবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপকমোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক উপমা কবির এবং দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের পরিকল্পনা সম্পাদক আসজাদুল কিবরিয়া।
চিন্তার চাষের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, খুদে গবেষক, অভিভাবক ও শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
চিন্তার চাষ একটি স্বেচ্ছাসেবী গবেষণা প্রতিষ্ঠান। স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করে তোলা ও গবেষণাচর্চার পরিবেশ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে।


