ভর্তুকি দিয়ে হলেও এনসিটি পরিচালনা দেশীয় নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি

ভর্তুকি দিয়ে হলেও এনসিটি পরিচালনা দেশীয় নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি
Advertisement
Advertisement

দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ও তা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি।

শুক্রবার সন্ধায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির রাজু চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে ভর্তুকি দিয়ে হলেও কৌশলগত স্থাপনা চট্টগ্রাম বন্দর দেশীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করতে হবে। দেশে দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নজির সৃষ্টিকারী ডিপি ওয়ার্ল্ড এর মতো কোনো বিতর্কিত বিদেশী প্রতিষ্ঠানের হাতে বন্দর ইজারা দেওয়া যাবে না।

জিয়াউল হক আরও বলেন, ‘সরকার কৃষি, জ্বালানি ও শিক্ষাসহ অনেক খাতেই ভর্তুকি দিয়ে থাকে। আমাদের যেহেতু একটাই মূল বন্দর, অর্থনীতির লাইফ লাইন, দেশের হৃৎপিণ্ড, যেখান দিয়ে মোট অর্থনীতির প্রায় ৯০ ভাগ আমদানি-রপ্তানি হয়, প্রয়োজনে সেই চট্টগ্রাম বন্দরকে ভর্তুকি দিয়ে হলেও সম্পূর্ণ দেশীয় ব্যবস্থাপনা ও দেশীয় নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করতে হবে। বন্দরের মতো কৌশলগত ও স্পর্শকাতর অবকাঠামো আমেরিকা, ইসরায়েল ও ভারতের মদদপুষ্ট ও এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো কোনো বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।’

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, ‘ভর্তুকীর ব্যাপার আনলেও প্রকৃতপক্ষে চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো ভর্তুকি দিতে হয় না বরং এ বছরও দেশীয় ব্যবস্থাপনায় চার হাজার কোটি টাকার বেশি সরকারি কোষাগারে বন্দরের আয় জমা হয়েছে। এই আয় প্রতিবছরই বাড়ছে। যার অবদান সম্পূর্ণ দেশীয় ব্যবস্থাপনার।’

স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টির গবেষণায় দেখা যায, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দিলে বছরে প্রায় ৯২ মিলিয়ন ডলার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি গুনতে হবে বাংলাদেশকে। যেখানে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটির বাৎসরিক নিট আয় হয়েছে প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ডলার, সেখানে এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনায় চলে গেলে এনসিটির বাৎসরিক নিট আয় দাঁড়াবে মাত্র ৫৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে।

সমাবেশে শাকিল মিয়া বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, মোট ২৭ জন কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারক ও ম্যানেজমেন্টের মধ্যে প্রধান নির্বাহীসহ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে ৬ জন ভারতীয় কর্মকর্তা রয়েছে, যারা ডিপি ওয়ার্ল্ডের মূল নিয়ন্ত্রক ও নীতিনির্ধারক হিসেবে কাজ করে, যারা বন্দরে কৌশলগত সাবোটাজ ঘটিয়ে বাংলাদেশকে কঠিন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘সোমালিয়া, সোমালিল্যান্ড, ইয়েমেন ও অতি সম্প্রতি ইরিত্রিয়ায় ইসরাইলের ঘাঁটি গড়ে তোলার ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিকল্পনা ফাঁস হয়েছে। যা আমাদের দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকির একটি বড় উদ্বেগ হওয়া উচিত।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad