দেশের প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবস্থাপনার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একটি দরপত্র প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা ও অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের ‘আইডিইএ’ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের এই দরপত্রে কারিগরি মূল্যায়নের নম্বর গোপন রাখা, আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্তকরণের সময় দরদাতাদের নোটিশ না দেওয়া এবং আইন-বিধির বাধ্যতামূলক ধাপগুলো লঙ্ঘন করে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ‘নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড’ (এনওএ) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) দরপত্রের চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদন কার্যক্রম স্থগিত করে সোমবার শুনানির দিন ধার্য করেছে। শুনানিতে প্রকল্প পরিচালককে সব নথিপত্রসহ উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনগণকে স্মার্ট এনআইডি দেওয়ার এই প্রকল্পে বরাবরই অদক্ষতা, অনিয়ম, ব্যর্থতা ও অর্থের অপচয়ের বিষয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। বার বার প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ও কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বিদেশ সফর ঘিরে রয়েছে সমালোচনা। এরই মধ্যে আবার নতুন বিতর্কের জন্ম, প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ।
নির্বাচন কমিশন ও বিপিপিএ সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীন ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস (আইডিয়া) প্রজেক্ট (সেকেন্ড ফেজ)’ প্রকল্পের আওতায় ‘বাংলাদেশ ভোটার রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (বিভিআরএস) অ্যান্ড দ্য অটোমেটিক বায়োমেট্রিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এবিআইএস) রিলেটেড টেকনোলজি অ্যাডপশন, সাপোর্ট সার্ভিসেস, সিস্টেম সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এনহ্যান্সমেন্ট, ডাটা মাইগ্রেশন, ট্রেনিং এবং ডিআরএস অপারেশন্সের জন্য সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট’ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়।
কোয়ালিটি অ্যান্ড কস্ট বেইজড সিলেকশন (কিউসিবিএস) পদ্ধতিতে পরিচালিত এই দরপত্রে কারিগরি মূল্যায়নে ৮০ শতাংশ এবং আর্থিক প্রস্তাবে ২০ শতাংশ নম্বর নির্ধারণ করা হয়। গত ৩১ মার্চ ২০২৬ দরপত্র জমা ও উন্মুক্তকরণের পর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকে দুটি প্রতিষ্ঠান-সিনেসিস আইটি লিমিটেড এবং ডায়নামিক সলিউশন ইনোভেটরস (ডিএসআই) লিমিটেড।
বিপিপিএ’র কাছে অভিযোগ
গত ৭ জুন বিপিপিএ রিভিউ প্যানেলে দায়ের করা আবেদনে সিনেসিস আইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহরাব আহমেদ চৌধুরী মূল্যায়ন প্রক্রিয়া গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখে করেন।
কিউসিবিএস পদ্ধতিতে কারিগরি মূল্যায়ন, আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্তকরণ, আর্থিক মূল্যায়ন ও সম্মিলিত মূল্যায়ন সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ র্যাংকিংপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নেগোশিয়েশনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, তা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে জানান।
তিনি বলেন, কারিগরি মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্তকরণ সভার তারিখ, সময় বা স্থান সম্পর্কে সিনেসিস আইটি লিমিটেডকে জানানো হয়নি। কারিগরি মূল্যায়নের ফলাফল বা টেকনিক্যাল স্কোর প্রকাশ না করেই আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্ত করা হয় এবং সিনেসিসের অজ্ঞাতে তড়িঘড়ি কররে ডিএসআইয়ের অনুকূলে এনওএ জারি করা হয়। এ ছাড়া, ই-জিপি পোর্টালে নেগোসিয়েশন,ডিব্রিফিং ও ক্ল্যারিফিকেশন সংশ্লিষ্ট ট্যাবসমূহে কোনো রেকর্ড নেই, অর্থাৎ বাধ্যতামূলক নেগোসিয়েশন ও অবহিতকরণের কোনো ধাপই সম্পন্ন হয়নি।
আবেদনে বলা হয়, সিনেসিস আইটির আর্থিক প্রস্তাব ছিল ১৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএসআইয়ের ২০ কোটি ৩৪ লাখ টাকার প্রস্তাবের চেয়ে কম। ফলে ডিএসআইকে বিজয়ী ঘোষণার ক্ষেত্রে কারিগরি মূল্যায়নের স্কোরই মূল নিয়ামক ছিল। কিন্তু সেই স্কোর আজও প্রকাশ করা হয়নি, যা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
সিনেসিস আইটির এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, গত ২৪ মে দুপুরে আর্থিক প্রস্তাব খোলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, ঈদের ছুটির ঠিক আগের দিন তড়িঘড়ি করে ডিএসআই-এর অনুকূলে ‘নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড’ (এনওএ) জারি করা হয়। ই-জিপি পোর্টালে বাধ্যতামূলক নেগোশিয়েশন, ডিব্রিফিং ও ক্ল্যারিফিকেশন সংশ্লিষ্ট কোনো রেকর্ডই নেই। এছাড়া ঈদের ছুটির কারণে অন্য প্রতিষ্ঠানের আপিল করার সাত দিনের আইনি সুযোগও সংকুচিত হয়ে পড়ে।
আইন-বিধি ও ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ডকুমেন্টের শর্তে যা আছে
পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি ১৪১ (১০) এ বলা হয়েছে, সম্মিলিত কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নে বিবেচিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম কারিগরি নম্বর অর্জনকারী আবেদনকারীগণের চিহ্নিতকরণের উদ্দেশ্যে প্রত্যেক প্রস্তাবে প্রাপ্ত কারিগরি নম্বর প্রদর্শনপূর্বক একটি প্রস্তাব মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে হবে। বিধি ১৪২(১) অনুযায়ী, কারিগরি মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুমোদনের পর যেসব আবেদনকারী ন্যূনতম কারিগরি স্কোর অর্জন করেছে, তাদের আর্থিক প্রস্তাবের প্রকাশ্য উন্মুক্তকরণ সভায় উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হবে। আর বিধি ১৪২(২) অনুযায়ী, প্রকাশ্য প্রস্তাব উন্মুক্তকরণ সভায় মূল্যায়ন কমিটি ন্যূনতম কারিগরি স্কোর অর্জনকারী প্রত্যেক প্রস্তাবের ব্যয় সহকারে প্রাপ্ত কারিগরি স্কোর ঘোষণা করবে।
অন্যদিকে, ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান আইডিইএ এর নিজস্ব আরএফপি ডকুমেন্টের ‘ইনস্ট্রাকশন টু কনসালট্যান্টস (আইটিসি)-এর ক্লজ ৪২.১ অনুযায়ী, কিউসিবিএস এবং এফবিএস পদ্ধতির ক্ষেত্রে, কারিগরি মূল্যায়ন সম্পন্ন ও অনুমোদিত হওয়ার পর ক্লায়েন্ট e-GP সিস্টেমের মাধ্যমে সেই সব পরামর্শককে অবহিত করবেন, যারা নির্ধারিত ন্যূনতম কারিগরি নম্বর (Tp) অর্জন করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্তকরণের তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ থাকবে। সাধারণত এ ধরনের তারিখ বিজ্ঞপ্তি জারির কমপক্ষে এক (১) সপ্তাহ পর নির্ধারণ করা হবে। আইসিটি ক্লজ ৪২.৩ অনূযায়ী, যেসব পরামর্শক নির্ধারিত ন্যূনতম কারিগরি নম্বর (Tp) অর্জন করেছেন, তাদের আর্থিক প্রস্তাব প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি (PEC) কর্তৃক প্রকাশ্যে উন্মুক্ত করা হবে এবং এতে উপস্থিত থাকতে ইচ্ছুক পরামর্শকদের প্রতিনিধিরা অংশ নিতে পারবেন।
উন্মুক্তকরণের সময় পরামর্শকদের নাম, তাদের কারিগরি নম্বর এবং প্রস্তাবিত মূল্য উচ্চস্বরে ঘোষণা করতে হবে এবং যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে। আইসিটি উপধারা ৪২.৩ অনুযায়ী ক্লায়েন্টকে প্রকাশ্য উন্মুক্তকরণের কার্যবিবরণী প্রস্তুত করতে হবে। অনুরোধ করা হলে, যেসব পরামর্শকের আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্ত করা হয়েছে তাদের উক্ত কার্যবিবরণীর অনুলিপি দিতে হবে। প্রকাশ্য উন্মুক্তকরণে উপস্থিত প্রতিনিধিদের একটি উপস্থিতি তালিকায় স্বাক্ষর করতে হবে। কিন্তু এসব নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের পর বিপিপিএ পদক্ষেপ
১৫ জুন ২০২৬ তারিখে বিপিপিএ’র পরিচালক (উপসচিব) মোহাম্মদ আলী আহম্মেদ খান আইডিইএ প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এনওএ জারি বা চুক্তি কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর ১৬ জুন বিপিপিএ রিভিউ প্যানেল-৩ এর চেয়ারম্যান মো. আলী কাদের আরেকটি নোটিশে সোমবার ২২ জুন সকাল ১০টায় শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়। নোটিশে আইডিইএ প্রকল্প পরিচালককে টেন্ডার নোটিশ, টেন্ডার ডকুমেন্ট, ওপেনিং রিপোর্ট, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, চুক্তিপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব মূল নথি নিয়ে বিপিপিএ ভবনে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবকে উপযুক্ত প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। শুনানিতে অংশ নিতে সিনেসিস আইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহরাব আহমেদ চৌধুরীকেও ডাকা হয়েছে।
বিষয়টি জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, কিউসিবিএস পদ্ধতিতে করা হলে, প্রকাশ্য প্রস্তাব উন্মুক্তকরণ সভায় মূল্যায়ন কমিটি ন্যূনতম কারিগরি স্কোর অর্জনকারী প্রত্যেক প্রস্তাবের ব্যয় সহকারে প্রাপ্ত কারিগরি স্কোর ঘোষণা করতে হবে। যদি এটা না করা হয় সেটি আইনের লঙ্ঘণ করা হবে।
সব নিয়ম মেনেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইডিইএ প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমাদের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে। বিষয়টি যেহেতু এখন রিভিউ প্যানেলের অধীনে (সাবজুডিস) রয়েছে, তাই এটি নিয়ে মন্তব্য করা সবার জন্য বিব্রতকর। আমরা বিপিপিএ’র কাছে আমাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য উপস্থাপন করব।’
টেন্ডারে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন তিনি বিষয়টা শুনেছি।
এনিয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো তদন্ত করবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তদন্ত হলে হতে পারে। তবে সাধারণত এখন যেহেতু উনারা একটি অভিযোগ করেছেন, সবচেয়ে ভালো হবে ওখানেই (বিপিপিএ) গিয়ে বিষয়টির সমাধান করা। যেহেতু বিষয়টি একটি লিগ্যাল ফোরামে গেছে, তাই ফোরামের সিদ্ধান্ত হোক, দেখা যাক।’
প্রকল্প ঘিরে আগেও ছিল নানা বিতর্ক
নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আইডিইএ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে এনআইডি, ভোটার তালিকা ও বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করলেও এর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে অনিয়ম ও অদক্ষতার অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, দেড় দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সব ভোটারের হাতে স্মার্ট এনআইডি কার্ড পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি, যদিও প্রকল্পের আওতায় বিদেশ সফরসহ বিভিন্ন ব্যয় অব্যাহত রয়েছে।
কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অতীতে ডেটা সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটিকে সুবিধা দিতে দরপত্রের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, যাতে প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ সুবিধা পায়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ কারণে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছেই ছিল। ২০১৪ সালে স্মার্টকার্ড মুদ্রণসংক্রান্ত দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগে বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে নিষিদ্ধ করলেও নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাদের সম্পৃক্ততা অব্যাহত ছিল।
কর্মকর্তারা আরও জানান, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডেটা সেন্টারের নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সম্প্রতি টাইগার আইটি ডেটা সেন্টারের পাসওয়ার্ড হস্তান্তর করলেও এখনো সোর্স কোড হস্তান্তর করেনি বলে তারা দাবি করেন।
এ ছাড়া আইডিইএ প্রকল্পের আওতায় স্মার্টকার্ড পার্সোনালাইজেশন কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রকল্পের যন্ত্রপাতি, জনবল ও ব্ল্যাঙ্ক কার্ড নির্বাচন কমিশনের হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই এ কাজের জন্য বিএমটিএফ অর্থ নিয়েছে। একই সঙ্গে যন্ত্র মেরামতের নামে অর্থ দাবির বিষয়েও তদন্তে অসঙ্গতির তথ্য উঠে এসেছে।


