হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ চলচ্চিত্র রূপ দিচ্ছেন তানিম নূর

হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ চলচ্চিত্র রূপ দিচ্ছেন তানিম নূর
Advertisement
Advertisement

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রের সঙ্গে রেলগাড়ি, রেলস্টেশন বা রেললাইনের সংযোগ বেশ পুরোনো। বহু সিনেমা নির্মিত হয়েছে রেলস্টেশন বা রেলগাড়ি ঘিরে। সিনেমার অনেক গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের চিত্রায়ন হয়েছে এসব স্থানে।

চলচ্চিত্রের এই রেল সংযোগ শুরু হয়েছিল ১৮৯৫ সালে। সেবছর অগাস্তে ও লুই লুমিয়ার নির্মাণ করেন দ্য অ্যারাইভাল অব আ ট্রেন। মাত্র ৫০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের এ চলচ্চিত্র দিয়েই বিশ্ব সিনেমায় রেলগাড়ি বা ট্রেনের যাত্রা শুরু। পরবর্তীতে বিশ্ববিখ্যাত অনেক ঔপন্যাসিকের গল্পে যেমন ট্রেন এসেছে, এসেছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের গল্প-উপন্যাসেও।

এর মধ্যে অন্যতম উপন্যাস ‘কিছুক্ষণ’। পুরো উপন্যাসটিই একটি ট্রেনযাত্রা ঘিরে আবর্তিত হয়।

উপন্যাসটির ফ্ল্যাপে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছিলেন, ‘ট্রেন দেখলেই আমার ট্রেনে চড়তে ইচ্ছা করে। ঢাকা শহরে অনেকগুলো রেলক্রসিং। গাড়ি নিয়ে প্রায়ই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। চোখের সামনে দিয়ে ট্রেন যায়, আর ভাবি—ট্রেনের যাত্রীরা কী সুখেই না আছে। আমার এই উপন্যাসটা ট্রেনের কামরায় শুরু, সেখানেই শেষ। কাহিনি শেষ হয়ে গেছে, ট্রেন চলছেই। মনে হচ্ছে, ট্রেনের শেষ গন্তব্য কোনো অপূর্ব লীলাময় অলৌকিক ভূবন।’

হুমায়ূনের এই বিখ্যাত উপন্যাসটিকে এবার চলচ্চিত্রে রূপ দিচ্ছেন তানিম নূর। উৎসবখ্যাত এই নির্মাতা সোমবার সকালে টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, গেল মাসে তিনি হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের কাছ থেকে উপন্যাসটির কপিরাইট নিয়েছেন। বর্তমানে চলছে চিত্রনাট্যের কাজ, যা করছেন আয়মান আসিব স্বাধীন ও সামিউল ভূঁইয়া।

চলচ্চিত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। একই নামে রাজশাহীগামী একটি ট্রেন থাকলেও এতে রাজশাহীর কোনো গল্প থাকছে না বলে জানান পরিচালক।

আরও পড়ুন

কেন এই উপন্যাসটি বেছে নিলেন দ্বিতীয় চলচ্চিত্রের জন্য?

এমন প্রশ্নের জবাবে তানিম বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ট্রেনের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ‘১৮৯৫ সালের দ্য অ্যারাইভাল অব আ ট্রেন দিয়ে যে শুরু, এরপর পথের পাঁচালী কিংবা আমাদের গোলাপী এখন ট্রেনে—এমন অসংখ্য ছবিতে ট্রেন বারবার ফিরে এসেছে। আমার অনেক প্রিয় পরিচালকের ছবিতেও ট্রেন এসেছে। আবার এই উপন্যাসের গল্পের বড় একটা অংশজুড়ে ট্রেন—যেটা আমাকে খুব আকর্ষণ করেছে।’

উপন্যাসের গল্প শুরু হয় চিত্রা নামের এক তরুণীকে দিয়ে। এ চরিত্রে সাবিলা নূরের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া শরিফুল রাজ ও চঞ্চল চৌধুরীর নামও আলোচনায় আছে। তবে এখনো কোনো শিল্পী চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তানিম।

তিনি বলেন, ‘এই চলচ্চিত্রে ওই অর্থে কোনো কেন্দ্রীয় চরিত্র নেই। আছে অনেক মানুষের গল্প। তাই আমরা অনেকের সঙ্গে কথা বলছি, কিন্তু এখনো কারও সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।’

তানিম আরও জানান, ট্রেনের ভেতরের দৃশ্যের জন্য তারা একটি সেট নির্মাণ করবেন এবং সেখানেই শুটিং হবে। বাইরের দৃশ্যগুলো ধারণের পরিকল্পনা আছে কমলাপুর বা অন্য কোনো ট্রেন স্টেশনে।

তিনি জানালেন, ছবিটি আগামী বছরের ঈদুল ফিতরের জন্য তৈরি করছেন। শুটিং শুরু হবে আগামী ডিসেম্বর থেকে। প্রযোজক প্রতিষ্ঠান বুড়িগঙ্গা টকিজ ও হইচই স্টুডিও।

ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হলো হইচই স্টুডিও। তাহলে চলচ্চিত্রটি কি ভারতে মুক্তির পরিকল্পনাও আছে?

জবাবে তানিম বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের ইচ্ছে আছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad