দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুই নম্বর ইউনিটটি বন্ধ পড়ে আছে গত চার বছর ধরে। এবার দেশের অন্যতম বৃহৎ কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তৃতীয় ইউনিটও অচল হয়ে পড়েছে। এতে তীব্র লোডশেডিংয়ের মুখে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলা।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে কেন্দ্রটির ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ সংকটের ‘হটস্পটে’ পরিণত হয়। ফলে ক্রমাগত লোডশেডিংয়ে মুখে পড়তে হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের আট জেলার বাসিন্দাদের।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গর্ভনর ভালভ স্টিম সেন্সরের চারটি টারবাইন নষ্ট হয়ে যাওয়াই তৃতীয় ইউনিট বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ। এই ইউনিটটি থেকে দৈনিক ১৬০ থেকে ১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। কোনো বিকল্প না থাকায় উত্তরাঞ্চলের কমপক্ষে আটটি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের সর্ববৃহৎ কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংকটে পেছনে আরেকটি ইউনিটের অচলাবস্থাও মূল ভূমিকা রেখেছে। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে অর্থাৎ প্রায় ৪ বছর ৮ মাস ধরে সংস্কার কাজের অজুহাতে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এই ইউনিটটি চালু থাকলে কিছুটা হলেও সংকট মোকাবেলা করা যেত। তাছাড়া দ্বিতীয় ইউনিট সচল থাকলে তৃতীয় ইউনিটের ওপরও চাপ কম পড়তো।
কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক শুক্রবার রাতে বলেন, ‘বর্তমানে শুধুমাত্র ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এক নম্বর ইউনিটটি সচল ও কর্মক্ষম আছে। তবে এই ইউনিট দিয়ে জাতীয় গ্রিডে কেবল ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। বিপরীতে এই ইউনিটটি চালু রাখতে প্রতিদিন ৮০০ মেট্রিক টন কয়লা খরচ হচ্ছে। অন্যদিকে দৈনিক ১৬০ থেকে ১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহকারী তৃতীয় ইউনিট চালু রাখতে দৈনিক ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন কয়লা খরচ হতো।’
বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কোল ইয়ার্ডে প্রায় চার লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। দৈনিক খনি থেকে তিন হাজার মেট্রিক টন কয়লা সরবরাহও করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত কয়লা মজুত থাকা সত্ত্বেও ৫২৫ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি নির্মাণের পর থেকে এখন পর্যন্ত কখনওই পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারেনি।
আবু বক্কর সিদ্দিক কেন্দ্রের সংস্কার কার্যক্রম বিষয়ে বলেন, ‘বন্ধ হওয়া তৃতীয় ইউনিটটি মেরামতের কাজ চলছে এবং আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যেই ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরবে।’
তৃতীয় ইউনিটের যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ায় এরইমধ্যে সেগুলো সংস্কারে চীনের বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে বলেও জানান তিনি। যদিও চীনা যন্ত্রাংশ ও বিশেষজ্ঞ দল কবে নাগাদ পৌঁছাবে, তা নিশ্চিত না হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফেরার এক সপ্তাহের আশ্বাস নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এই সংকটের মাঝেই দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি- পার্বতীপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো: জহুরুল হক জানিয়েছেন, সৈয়দপুর সাব স্টেশন মেরামতের কারণে শনিবার সকাল ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত পার্বতীপুর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।
পার্বতীপুর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ৮০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এই এলাকায় দৈনিক ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবারহ হচ্ছে মাত্র আট থেকে নয় মেগাওয়াট।


