অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না। এমনকি নতুন পে-স্কেলের সুপারিশও চূড়ান্ত করেনি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচিত নতুন সরকার।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
এছাড়া মন্ত্রীদের জন্য বিশাল আয়তনের ফ্ল্যাট নির্মাণের বিষয়ে তিনি জানান, ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়নি।
উপদেষ্টা বলেন, পে কমিশনের প্রতিবেদন কেবল গ্রহণ করা হয়েছে। পে কমিশনের সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি সরকারের আর্থিক সংস্থানসহ সব দিক পর্যালোচনা করে একটি রূপরেখা তৈরি করবে। তবে এই সুপারিশগুলো কার্যকর করা বা পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আর্থিক প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, কমিশনের সুপারিশ হুবহু কার্যকর করা হলে সরকারের সর্বোচ্চ এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে বাস্তবে এ ধরনের পে-স্কেল একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হয় না। বরং ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয় যাতে অর্থনীতির ওপর চাপ না পড়ে।
উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকার মূলত পরবর্তী সরকারের জন্য বিভিন্ন খাতের মাস্টারপ্ল্যান ও প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো গুছিয়ে রাখছে। পে কমিশনের প্রতিবেদনটিও সেই প্রক্রিয়ারই অংশ, যাতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় কোনো প্রশাসনিক অচলাবস্থা বা অস্থিরতা তৈরি না হয়।
বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে পে কমিশনের সম্পর্কের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, যেহেতু সরকার এখনো এটি বাস্তবায়নের কোনো সিদ্ধান্তই নেয়নি, তাই এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।


