ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, ‘পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করতে আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশন কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এ সময় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, বিকাল ৩টার দিকে মন্ত্রী ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশন কার্যালয় পরিদর্শনে যান।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের এখনো কোনো চিন্তাভাবনা নেই। আমি আমার জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত বর্তমান ট্রাইবুনালের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার মতো কোনো দিক পাইনি, পেলে নিশ্চয়ই আমরা দেখব।’
‘মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়া আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ নয়, বিচার তো হতে হবে। আমাদের বিবেচনার বিষয় হলো ন্যায়বিচার হচ্ছে কি না। সেটা আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জের বিষয়।’
প্রসিকিউশন টিমের সদস্যদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলোকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। বিষয়টি চলমান রয়েছে।’
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স কমানো হবে কি না এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘বিচারপতিদের বয়স ৬৭ থেকে ৬৫ থেকে করার বিষয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছিল। এটি সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে জড়িত এবং এর জন্য নির্ধারিত কমিটিতে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি কমানোর পক্ষে না, বাড়ানোর পক্ষে।’
‘কারণ, তাতে রাষ্ট্র অভিজ্ঞ বিচারপতিদের কাছ থেকে বেশি করে সেবা পাবে। আমেরিকাসহ অনেক দেশে বিচারকদের অভিজ্ঞতার গুরুত্ব বিবেচনায় কোনো নির্দিষ্ট অবসরের বয়সসীমা নেই।’
বিচার বিভাগের বাজেট বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি অতো বেশি আশাবাদী না। দেখব কতটুকু আনা যায় বা ভবিষ্যতে আনার জন্য নিরন্তরভাবে কাজ করা যায়।’


