মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় দুই আনসার সদস্য মো. আবু সাঈদ ও মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বিকালে আসামিরা জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবীবুর রহমান ও সজীব চৌধুরীর আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দেন। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জানান, রোববার রাত আনুমানিক ২টার দিকে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজস্ব চার্জিং ভ্যানে করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানের চার্জ শেষ হয়ে যায়। নিরাপত্তার কথা ভেবে স্বামী-স্ত্রী মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।
এ সময় হাসপাতালের প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালন করা আনসার সদস্য শাহাদাৎ হোসেন ও আবু সাঈদ তদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের ১০ তলা ভবনের নিচতলায় স্বামীকে রেখে ওই নারীকে ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে ওই দুই আনসার সদস্য নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী নিচতলায় নেমে স্বামীকে বিষয়টি জানান। এরপর পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতালে দায়িত্বরত সব আনসার সদস্যকে থানায় ডেকে আনে। ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে শনাক্ত করলে তাদের আটক করা হয়।
পরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সদর থানার টহল ডিউটিতে থাকা পুলিশের কাছে ঘটনা খুলে বললে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, ‘মো. আবু সাঈদ ও মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন ধর্ষণের বিষয়টি আমাদের কাছে স্বীকার করেছে। তারা ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনার পেছনে আরও কোনো ঘটনা আছে কিনা তা তদন্তের জন্য এক পুলিশ পরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আনসার সদস্য শাহাদত হোসেন ও আবু সাঈদকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।


