চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মেলিসার প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলীয় ক্যারিবীয় এলাকা। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বিভিন্ন দেশে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর প্রভাবে জ্যামাইকা ও হাইতির অনেক অঞ্চল বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পাশপাশি দেখা দিয়েছে বন্যা।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বুধবার মেলিসার স্পষ্ট ছাপ দেখা দেয় জামাইকার ওপরে। মঙ্গলবার আঘাত হানা ক্যাটেগরি-৫ এর এই ঘূর্ণিঝড়ে সেখানে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। অনেকে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন।
জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলসেন বলেন, পুরো দ্বীপরাষ্ট্রটি জুড়ে এই ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে। ৮০-৯০ শতাংশ বাড়ির ছাদ ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসপাতাল, লাইব্রেরি, পুলিশ স্টেশনসহ শহরের অনেক স্থাপনা ক্ষতির মুখে পড়েছে।
জামাইকায় প্রায় ৭৭ শতাংশ অঞ্চল বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
এএফপির খবরে বলা হয়েছে, হাইতিতে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে ১০ জন শিশু। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সেখানে হঠাৎ বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তত ৩০০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কিউবা। কিউবার সাউথ ওয়েস্ট ও নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশগুলোতে সাড়ে চব্বিশ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে এবং পাহাড়ি ভূমিধসে বন্ধ হয়ে পড়েছে সড়ক।
সান্তিয়াগো ডি কিউবার ভিডিও মেকার রভিয়ার মেসা রদ্রিগেজ বলেন, ঝড়ের প্রভাব খুবই ভয়ঙ্কর ছিল, অনেকটা ‘টর্নেডোর’ মতো শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ ক্যানেল সবাইকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বজায় আখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। খারাপ পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকাতেই অনেক বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে । কিউবায় এ সময় প্রায় ৭৩৫ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়।


