দেশে হাম পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে দুজনই সন্দেহজনক হামের রোগী ছিলেন। এ নিয়ে গত আড়াই মাসে দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৫ জনে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হামে মারা গেছেন ৪৯৫ জন এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ৯০ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হওয়া রোগীদের মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের এবং জেলা হিসেবে ফরিদপুরে একজন রোগীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত নিয়মিত স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই চিত্র উঠে এসেছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৯৩৬ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৩২৪ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৪৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে ৫৩ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এই সময়ের মধ্যে সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছেন ৫৬ হাজার ৮৮৬ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫২ হাজার ৮৪১ জন রোগী।
আক্রান্তের দিক থেকে ঢাকা বিভাগ এখনো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৬২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামে ২৬২ জন, বরিশালে ১৪২ জন, রাজশাহীতে ৭৯ জন, ময়মনসিংহে ৮২ জন, সিলেটে ৬৯ জন, খুলনায় ৯৯ জন এবং রংপুর বিভাগে ২৯ জন নতুন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে অদ্যাবধি মোট আক্রান্তের পরিসংখ্যানেও ঢাকা বিভাগ শীর্ষে, ৩৩ হাজার ৪৭০ জন। এরপরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, ১১ হাজার ৫৪৯ জন।
হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকারিভাবে জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ চলমান রয়েছে। সারা দেশে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ৩৪৩ জনকে টিকা প্রদান করা হয়েছে, যার জাতীয় কাভারেজ ১০২ শতাংশ।
দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি, ১০৬ শতাংশ কভারেজ অর্জিত হয়েছে। সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সর্বোচ্চ ১১৩ শতাংশ এবং ঢাকা উত্তর ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ১০৯ শতাংশ কভারেজ অর্জিত হয়েছে। তবে রংপুর সিটি করপোরেশনে কভারেজ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম, ৯৮ শতাংশ দেখা গেছে।


