দেশে হাম পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে দুজন নিশ্চিত হাম রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তারা চট্টগ্রাম বিভাগের। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ বা সন্দেহজনক মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের, যার মধ্যে রাজশাহীতে দুজন এবং বরিশাল, খুলনা ও সিলেটে একজন করে মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭৩ জন ও সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৮১ জন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ২৬০ জনে। এ ছাড়া ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৯৯ জন। এই সময়ের মধ্যে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩২৪ জনের, যার মধ্যে ৫৬ জন নিশ্চিত হামে এবং ২৬৮ জন সন্দেহজনক হামজনিত কারণে মারা গেছেন। দেশের হাসপাতালগুলোতে ৩০ হাজার ৮৮৫ জন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৭ হাজার ২২৩ জন।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে গত এক দিনে ১২২ জন নিশ্চিত রোগী এবং ৫৬৯ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে ৩৯ জন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহীতে ২৩ জন, সিলেটে ১৮২ জন (সন্দেহজনকসহ শনাক্তের হার বেশি), খুলনায় ২ জন, বরিশালে ১ জন এবং রংপুরে ২ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
এদিকে, হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার দেশজুড়ে ‘জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬’ পরিচালনা করছে। গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ১ কোটি ৬৮ লাখ ২১ হাজার ৬০৫ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১০১%। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৭৭৮ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।


