চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে শেষমেশ চাকরি খোয়ালেন পুলিশের অতিরিক্ত এসপি গোলাম সাকলায়েন শিথিল।
বৃহস্পতিবার তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর আদেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে অসদাচরণের প্রমাণিত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী এই ‘গুরুদণ্ড’ দেওয়ার কথা জানানো হয়।
এর আগে বুধবার তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়টি অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি।
পাঁচ বছর আগে পরীমনির করা একটি মামলা তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সাকলায়েন। তখন তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা শাখার এডিসি ছিলেন। তবে অবসরে পাঠানোর আগে তিনি পুলিশের ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সাকলায়েন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে ‘অনৈতিক’ সম্পর্কে জড়ান।
এতে লেখা হয়, ‘তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন ও নিজের সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অবর্তমানে সময় কাটানোর মতো ঘটনা ঘটান। এসব ঘটনা বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে আসায় সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন হয়।’
২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ৩ (খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’- অভিযোগে বিভাগীয় মামলাও হয়।
এরপর অভিযোগনামা ও অভিযোগের বিবরণী পাঠিয়ে কারণ দর্শাতেও বলা হয়। তিনমাস পর জবাব দেন সাকলায়েন। পরে ওই বছরের ২৩ আগস্ট তার ব্যক্তিগত শুনানি হয়।
কী হয়েছিল
২০২১ সালের ১৪ জুন ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে একটি মামলা করা হয় জাতীয় পার্টির নেতা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে। সেই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি।
মাস দুয়েক পর ৪ আগস্ট র্যাবের অভিযানে পরীমনি ও তার সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুকে আটক করা হয়। পরে আটক হন প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ ও তার ব্যবস্থাপক সবুজ আলী।
সেসময় সাকলায়েনের জন্মদিনে পরীমনির কেক টাকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায় র্যাবের সেই অভিযানের তিন দিন আগে সাকলায়েনের সরকারি বাসায় প্রায় ১৮ ঘণ্টা সময় কাটান পরীমনি।
এরপরই সাকলায়েনকে ডিবি থেকে সরিয়ে নিয়ে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট পশ্চিম বিভাগে বদলি করা হয়।


