বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি এখন উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে হাম সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে ২০২৪–২৫ সালে টিকাদান কর্মসূচির কাভারেজ কমিয়ে দেওয়াকে দায়ী করেছে ডব্লিউএইচও।
সংস্থাটি বলছে, ২০০০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচির কারণে বাংলাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা দ্রুত কমে এসেছিল। তবে জাতীয় পর্যায়ে ২০২৪-২৫ সালে দেশে এমআর টিকার ঘাটতির কারণে টিকাদানের কাভারেজ কমে যায়। এ ছাড়াও ২০২০ সালের পর থেকে হাম-রুবেলা সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচিও ছিল না। এসব কারণে সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা বেড়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশে অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান নিশ্চিত করা, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যকর্মী ও ভ্রমণকারীদের টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে ডব্লিউএইচও।
গত এক মাসের হাম পরিস্থিতির মূল্যায়ন
বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে সংস্থাটির মূল্যায়নে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ আছে এমন ১৯ হাজার ১৬১ জন রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে এবং যাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে তাদের মধ্যে ২ হাজার ৯৭৩ জন নিশ্চিত হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই এক মাসে হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ১৬৬ জনের, উপসর্গ আছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে এই মৃত্যুর হার দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এ ছাড়াও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে, নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এই মৃত্যুর হার এক দশমিক এক শতাংশ।
আক্রান্তদের ৭৯ শতাংশই শিশু, ঘনবসতি এলাকায় সংক্রমণ বেশি
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আক্রান্তদের মধ্যে ৭৯ শতাংশই শিশু যাদের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশ শিশুর বয়স দুই বছরের কম এবং ৩৩ শতাংশ শিশু ৯ মাসেরও কম বয়সী। দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের অধিকাংশরই মৃত্যু ঘটেছে টিকা না পাওয়া অথবা একডোজ কম টিকা নেওয়ার কারণে। আর ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা টিকা নেওয়ার বয়সে পৌঁছানোর আগেই সংক্রমণের কারণে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
এ ছাড়াও দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলাতেই হাম ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দেশের আট বিভাগেই রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে হামে আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি রোগীর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে, সর্বোচ্চ ৮ হাজার ২৬৩ জন। ঢাকার ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কোরাইল, মিরপুর ও তেজগাঁওয়ের ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকায় এই সংক্রমণের হার আরও বেশি।
এরপর গত এক মাসে রাজশাহী বিভাগে তিন হাজার ৭৪৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে দুই হাজার ৫১৪ জন ও খুলনা বিভাগে এক হাজার ৫৬৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে।


