জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের জন্য শহীদ আবু সাঈদের মতো বুক পেতে দিতে রাজি আছি কিন্তু দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মান কারও কাছে বন্ধক রাখবো না।’ জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই বিপ্লবে সব হত্যাকাণ্ডের বিচার সবার আগে করা হবে বলে জানান তিনি।
শনিবার সকাল ৯টায় রংপুরের পীরগঞ্জের বাবনপুরে শহীদ আবু সাইদের কবর জিয়ারত এবং পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী আখতার হোসেন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মো. সিগবাতুল্লাহ প্রমুখ।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি, শহীদ আবু সাঈদ এবং তার সঙ্গীরা যারা জীবন দিয়ে আমাদের মুক্ত করেছেন। আমাদের ঘাড়ে তারা যে দায়িত্বের বোঝা রেখে গেছেন, আমানতের যে বোঝা রেখে গেছেন, আমাদের জীবন দিয়ে হলেও সেই আমানত আমরা রক্ষা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘তাদের যে আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা ছিল দুর্নীতিমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ার। আমরা তা প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’ তিনি বলেন, ‘শহীদ আবু সাঈদসহ অন্যান্য শহীদের পরিবারকে আমাদের মাথার তাজ করে রাখবো। এটা বাস্তবে দেখবেন।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা চেয়েছি একটি শান্তির বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে। আমরা আমাদের জাতিকে বিভক্ত করতে দেব না। এই বিভক্তির অবসান ঘটানোর জন্যই আমরা ১০-দলীয় জোট একত্রিত হয়েছি। দশে মিলে আপনাদের সামনে এসে হাজির হয়েছি। বাংলাদেশের ৩০০ আসনে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিভিন্ন দল থেকে আমরা প্রার্থী দিয়েছি।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি জীবন যাবে তবু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না।’
কবর জিয়ারতের আগে সেখানে উপস্থিত আবু সাইদের বাবা মকবুল হোসেনকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হন জামায়াত আমির। কবর জিয়ারত শেষে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরে জামায়াত আমির গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর উদ্দেশে রওনা হন।


