রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে আনিশা ফেরদৌসী (২২) নামে এক কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
শনিবার বিকালে হাজারীবাগের টালি অফিস পানির পাম্প গলির একটি ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলার ভাড়া বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
স্বজনরা জানান, আনিশার বাবার নাম জলিল রহমান। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায়। স্বামীর নাম সেলিম রানা, তার বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়।
হাসপাতালে নেওয়া আমিরুল ইসলাম জানান, আনিশা তার জৈবিক মেয়ে। তবে আমিরুলের বোন ও ভগ্নীপতির সন্তান না থাকায় জন্মের পাঁচ মাস বয়সে আনিশাকে তাদের কাছে দত্তক দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি জলিল রহমানের কাছেই বড় হন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাজারীবাগে আমিরুল ইসলামের বাসায় থেকে তিনি সিটি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে ভর্তি হন। সিটি কলেজে পড়াকালীন সেলিম নামে এক যুবকের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা নিজেদের উদ্যোগে বিয়ে করেন। প্রায় ২২ দিন আগে বিষয়টি বরিশালে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে জানান। প্রথমে পরিবার আপত্তি জানালেও পরে মেনে নেয়। শনিবার সকালে তারা গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে হাজারীবাগের বাসায় ওঠেন।
পরিবারের দাবি, বিকালে নিজের কক্ষে দরজা বন্ধ অবস্থায় তাকে ঝুলন্ত দেখতে পেয়ে দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং হাজারীবাগ থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।


