জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীর ওপর সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ দাবি জানান।
মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু এবং এজিএস (নারী) আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় গত ১২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনাটি বিস্তারিত তুলে ধরা হয় এবং অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। বৈঠক শেষে উপাচার্য জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তদন্ত কার্যক্রমের দ্রুত অগ্রগতির মাধ্যমে শিগগিরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
উপাচার্য জানান, ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক সাড়া প্রদানের জন্য ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন, অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন চালু, পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা, বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রবেশদ্বারগুলোতে নিরাপত্তা তদারকি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ক্যাম্পাসে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিক, দোকানকর্মী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যভিত্তিক নিবন্ধন, ভ্রাম্যমাণ দোকান অপসারণ, নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি, সীমানা প্রাচীরের অসমাপ্ত অংশের কাজ সম্পন্ন করা এবং পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করার উদ্যোগের বিষয়েও মন্ত্রীকে বিস্তারিত জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এসব ইতিবাচক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।
একই সঙ্গে তিনি ক্যাম্পাসে অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।


