পুরান ঢাকার জিন্দাবাহার পার্ক এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর ৯০ ভরি ওজনের দুটি সোনার বার ডাকাতির মামলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তাসহ ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন সংস্থাটির সাবেক সহকারী পরিচালক এস এম সাকিব হোসেনও রয়েছেন।
সোমবার ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শিহাবুল ইসলাম এ রায় দেন।
দণ্ডিত অন্য আসামিরা হলেন-মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক গাড়িচালক ইব্রাহিম শিকদার, জীবন পাল, আমিনুল ইসলাম, রতন কুমার সেন ও এমদাদুল হক।
যাদের মধ্যে সাকিব ও জীবনকে আট বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বাকি চার আসামিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাদের আরও তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আর হারুন মুন্সী নামে এক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারি মিলন হোসেন বলেন, ‘রায়ের সময় ছয় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। তবে রায় ঘোষণার আগে জীবন পালিয়ে যান। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। দণ্ডিত অপর পাঁচ আসামিকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
৯০ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারি পুরান ঢাকার জিন্দাবাহার লেনের ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান কোতয়ালী থানায় একটি মামলা করেছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৭ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েক ব্যক্তি সিদ্দিকুর রহমানকে তুলে নিয়ে ৯০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়। অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়।
মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ৫ অক্টোবর আটজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন কোতয়ালী থানার এসআই রুবেল মল্লিক। ২০২২ সালের ৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আলমগীর হোসেন নামে এক আসামি মারা যায়। বিচার চলাকালে ২৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।


