সাবেক ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে হচ্ছে ‘প্রতিরক্ষা শিল্প জোন’

সাবেক ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে হচ্ছে ‘প্রতিরক্ষা শিল্প জোন’
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত সাবেক ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রায় ৫০০ একর জমিতে বিশেষ ‘প্রতিরক্ষা শিল্প জোন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই বিশাল এলাকাটি এখন সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে আশিক চৌধুরী বলেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভেতর দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছিল। বর্তমান বিশ্ববাজারে এই খাতের ব্যাপক চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশও একটি উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়। মূলত অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা সংকটের কথা উল্লেখ করে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, যুদ্ধের সময় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে উচ্চ প্রযুক্তির চেয়ে সাধারণ সামরিক সরঞ্জামের সংকট বেশি দেখা দেয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে দেখা গেছে, অত্যাধুনিক অস্ত্রের চেয়ে সাধারণ বুলেট বা ট্যাঙ্কের যন্ত্রাংশের মতো মৌলিক জিনিসের অভাবই ছিল বেশি। তাই নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন

‘প্রতিরক্ষা শিল্প জোন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। ইতিমধ্যে প্রস্তাবটি বেজার গভর্নিং বোর্ডে পেশ করার পর তা অনুমোদন পেয়েছে। এখন এটি বেজার মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করে উৎপাদনমুখী অবকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাইয়ের এই জমিটি গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় ৫০০ একর জমিটি খালি পড়ে ছিল। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে এখন এই পরিত্যক্ত জমিটি প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই জোনটি চালু হলে স্থানীয়ভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির সক্ষমতা বাড়বে। এর ফলে একদিকে যেমন প্রতিরক্ষা খাতে আমদানিনির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad