নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিতে গেলে জামাতার প্রাইভেটকারের ধাক্কায় শ্বশুর নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত জামাতাকে প্রাইভেটকারসহ আটক করে পুলিশের দেন।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের দক্ষিণ দুড়াকুটি গ্রামের ঘোপাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের নাম ইনতাজুল ইসলাম। তার বয়স ৬০ বছর। অভিযুক্ত জামাতা আবু তাহেরের বয়স ৩৫ বছর। তিনি একই ইউনিয়নের পাগলাটারী গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আবু তাহেরের একজন স্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রেম করে ইনতাজুল ইসলামের মেয়ে রেজেকা ইসলামকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। রেজেকা ইসলামের বয়স ২২ বছর।
পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার সকালে রেজেকা ইসলাম স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জুমার নামাজের সময় আবু তাহের তার প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রাইভেটকারে করে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। তিনি ক্ষমা চেয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে প্রাইভেটকারে তুলে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ খবর পেয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে ইনতাজুল ইসলাম ও তার ছোট মেয়ে নার্গিস প্রাইভেটকারটির গতিরোধ করতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাধা দেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ সময় আবু তাহের প্রাইভেটকার চালিয়ে ইনতাজুল ইসলামকে ধাক্কা দিলে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে প্রাইভেটকারসহ আবু তাহেরকে আটক করে কিশোরগঞ্জ থানায় দেন।
নিহতের ছোট মেয়ে নার্গিস অভিযোগ করেন, তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
কিশোরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুছ জানান, এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


