সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে দায়িত্ব থেকে সরাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
শনিবার ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান বলেন, এই ঘটনার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না বলে জানান তিনি।
রাশেদ খান আরও বলেন, ‘আমার ভাই ওসমান হাদি যদি আমাদের মাঝে ফিরে না আসে, তার জবাবদিহি এই সরকারকে করতে হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কোনোভাবে এই ঘটনার দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। এই ভাঙাচোরা উপদেষ্টার নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনো সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘সরকার যদি সত্যি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চায় এবং জাতিকে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে চায়, তাহলে সবার আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে রদবদলের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা দেখছি ডিসি, এসপি পর্যায়ে বদলি হচ্ছে, কিন্তু উপদেষ্টা পরিষদে কেন কোনো পরিবর্তন আসছে না। এই অযোগ্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।’
এ কারণে ঘটনার দায় নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।
গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।’
তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কয়েকজন ব্যক্তিকে টার্গেট করেছে, যার মধ্যে ওসমান হাদি অন্যতম।
‘ওসমান হাদি আমাদের মাঝে ফিরবেন কি না, আমরা জানি না। তার সঙ্গে যা হয়েছে, কাল হয়তো আমার সঙ্গে হবে, আপনার সঙ্গে হবে’, বলেন তিনি।
নিরাপত্তাহীন পরিবেশে নির্বাচন ও গণসংযোগ কীভাবে সম্ভব, সে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে নির্বাচন আয়োজনের নৈতিক অধিকার তাদের নেই। বক্তব্যের শেষে তিনি ওসমান হাদির ওপর হামলায় জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান শুরুর জোর দাবি জানান।
শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর ঢাকার বিজয়নগর এলাকার বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি।
তিনি ইনকিলাব মঞ্চ নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্র। তার পুরো নাম শরিফ ওসমান হাদি হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ওসমান হাদি নামে পরিচিত।


