সুদানের অবরুদ্ধ শহর এল-ফাশারের একটি বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসক।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানায়, বুধবার এ হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় প্রতিরোধ কমিটি একে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এর জন্য আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) দায়ী করেছে। তাদের দাবি, হামলায় মোট ২৭ জন হতাহত হয়েছেন।
গত বছরের মে মাস থেকে আরএসএফ শহরটি অবরোধ করে রেখেছে। বর্তমানে এল-ফাশার দখলে নিতে তারা সর্বাত্মক হামলা চালাচ্ছে। বোমাবর্ষণে শহর কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, আশপাশের বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবিরও দখল করে নিয়েছে আরএসএফ।
জাতিসংঘের মতে, শহরে প্রায় দুই লাখ ৬০ হাজার বেসামরিক নাগরিক আটকা আছেন, যাদের অর্ধেকই শিশু।
চিকিৎসকরা জানান, ওষুধের অভাবে গুরুতর আহতদের চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না; ক্ষত বাঁধার জন্য গজের বদলে মশারির টুকরো ব্যবহার করতে হচ্ছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এড়াতে তারা স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সহায়তা নিচ্ছেন।
এর আগে, গত শুক্রবার শহরের একটি মসজিদে আরএসএফের ড্রোন হামলায় অন্তত ৭৫ জন নিহত হয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু ছিল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ জরুরি শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।
এল-ফাশার হলো দারফুর অঞ্চলের শেষ গুরুত্বপূর্ণ শহর, যা এখনো সরকারি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর পতন ঘটলে পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সব জনবসতিপূর্ণ কেন্দ্র আরএসএফের দখলে চলে যাবে।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই অঞ্চলে অনারব জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ নৃশংসতা চালাচ্ছে আরএসএফ ও তাদের সহযোগীরা। এল-ফাশারে সেনাবাহিনীর পক্ষে লড়াইরত যৌথ জোটের অধিকাংশ যোদ্ধা জাঘাওয়া জাতিগোষ্ঠীর।


