সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ছাত্রী হলগুলোয় বানরের উপদ্রব বেড়েছে। গত কয়েকমাসে আবাসিক হলের শতাধিক ছাত্রী বানরের আক্রমণে আহত হওয়ায় তাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
টিলা ও গাছপালা ঘেরা ছাত্রীদের দুররে সামাদ রহমান হল ও সুহাসিনী দাস হলে খাবারের সন্ধানে বানররা প্রায়ই দল বেঁধে হানা দেয় বলে জানিয়েছেন আবাসিক ছাত্রীরা।
সম্প্রতি বানরের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুইটি হলের চার পাশে নেট দিয়ে ঘিরে দিয়েছে, হলের পাশের গাছের ডালপালা ছাঁটাই করেছে, ট্র্যাপও স্থাপন করে নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যবস্থা করেছে। তবে এরপরেও বানরের উৎপাত নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
ছাত্রী হলে বানরের আক্রমণ বন্ধে করনীয় নিয়ে ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বন ভবনে প্রধান বন সংরক্ষক, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেছে সিকৃবি কর্তৃপক্ষ।
বুধবার সিকৃবি ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আলিমুল ইসলাম এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. সামিউল আহসান তালুকদার বন ভবনে বন বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক আমির হোসাইন চৌধুরী, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক সানাউল্লাহ পাটোয়ারী এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক মিজানুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বানরের আক্রমণ থেকে ছাত্রীদের রক্ষার জন্য বন বিভাগের প্রতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বন বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
সিকৃবি ভিসি ড. আলিমুল ইসলাম বলেন, ‘বণ্যপ্রাণি নিয়ন্ত্রণ আইনের বাধ্যবাধকতা থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ সত্ত্বেও এই সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না।’
‘তবে ছাত্রী হলের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আহতদের সুচিকিৎসা ও ভ্যাক্সিন প্রদানের ব্যবস্থাসহ বানরের আক্রমণ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানের যথাসাধ্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’


