সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সহিংসতা ও অপরাধ দমনে নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে ৩২৯ জন ব্যক্তিকে শহর থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আগামী দুই বছর পর্যন্ত তাদের চট্টগ্রামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ।
সিএমপি প্রথমে ৩৩০ জনের তালিকা দিলেও পরে দেখা যায় এতে একজন মৃত কাউন্সিলরের নাম রয়েছে। পরে তালিকা সংশোধন করে ৩২৯ জন করা হয়।
বহিষ্কৃতদের তালিকায় বড় একটি অংশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী হলেও এতে বিএনপি নেতাকর্মীদেরও নামও রয়েছে। এছাড়াও আছে কারাবন্দি ইসকন গুরু চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নাম।
বিএনপি সূত্র নিশ্চিত করেছে, তাদের দলের অন্তত এক ডজন নেতাকর্মীর নাম এই তালিকায় আসায় দলের ভেতরে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নজিরবিহীন আদেশ জারি করা হয়। এর ফলে নির্বাচনের আগে পুরো চট্টগ্রাম মহানগরী কার্যত একটি কঠোর নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা বলয়ে পরিণত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্য ও অপরাধীদের রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা গেছে তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের গতিবিধি জননিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। নির্বাচনের সময় তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, সশস্ত্র সংঘর্ষ এবং বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুলিশের এই তালিকায় সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সিটি মেয়র ও সাবেক কাউন্সিলরদের পাশাপাশি শীর্ষ সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী চক্রের সদস্যদের নামও রয়েছে। উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী ও তার ছেলে ফারাজ করিম চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য এম আব্দুল লতিফ। এছাড়া তালিকায় সিটি কর্পোরেশনের ৪০ জন সাবেক কাউন্সিলর এবং যুবলীগ-ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতাদের নাম রয়েছে।
এছাড়াও তালিকায় আছে মহানগর বিএনপির ৪ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজার নাম। তিনি অভিযোগ করেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই তালিকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের নাম ঢোকানো হয়েছে। বিষয়টি দলের হাইকমান্ড ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ৩৩০ জনের মধ্যে তাদের কোনো নেতাকর্মীর নাম নেই।


