সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে সোহরাব হোসেন সরদার (৫৮) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক এই রায় ঘোষণা করেন।রায় ঘোষণার সময় আসামি সোহরাব হোসেন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, সম্পর্কে প্রতিবেশী দাদা হওয়ায় সোহরাব হোসেন চার বছর বয়সী ওই শিশুটির সঙ্গে মাঝেমধ্যে খেলাধুলা করতেন। ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাড়ির উঠানে খেলা করার একপর্যায়ে শিশুটিকে কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে যান সোহরাব। পরে গলা চেপে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। সন্ধ্যায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি তার মাকে জানায়।
এ ঘটনার পর ২০২৪ সালের ৪ মার্চ শিশুটির মা বাদী হয়ে সোহরাব হোসেনকে একমাত্র আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলার পরদিনই সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয় এবং আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল আলম আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। মামলার পর থেকেই আসামি সোহরাব জেলহাজতে ছিলেন।
সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ বলেন, ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মজিদ অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।


