‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে অর্থ আদায়ের অভিযোগ এনে সময় টেলিভিশনে সংবাদ প্রচার করায় মানহানি মামলা করেছেন ইসলামী আইনজীবী পরিষদের নেতা ও ইসলামী আন্দোলনের বগুড়া–২ আসনের সাবেক এমপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন জুয়েল (৪০)।
বুধবার বাদী নিজেই গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমানের আদালতে তিনি বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্ত করে আগামী বছরের ১২ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় বাদীর ৫ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন—বাদীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচারকারী সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার এম এ আজিম (৩৫), সময় টেলিভিশনের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান রিপোর্টার, হেড অব নিউজ, সিইও, সৌরভ হোসেন (২৫), ইসমাইল হোসেন (৩২) ও শফিকুল ইসলাম শাকিল (৪০)।
মামলার বিষয়ে বাদী অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘আমার এক নারী মক্কেলকে জড়িয়ে আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রচার করেছে সময় টেলিভিশন। যতক্ষণ না তারা এ ভিত্তিহীন প্রতিবেদনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী পেশায় একজন আইনজীবী। এর ধারাবাহিকতায় এক নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা করতে বাদী জামালের চেম্বারে আসেন এবং মামলা দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামি সৌরভ ও ইসমাইল অ্যাডভোকেট জামালকে হত্যার হুমকি দেন।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে অব্যাহত হুমকির মুখে অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন ওই মামলার দায়িত্ব ছেড়ে দেন এবং ভুক্তভোগী নারী অন্য আইনজীবী নিয়োগ দেন।
এরপর, ওই ঘটনার সূত্র ধরে গত ৫ নভেম্বর সময় টেলিভিশন ‘আইনজীবীর নেতৃত্বে হানি ট্র্যাপ চক্র, প্রেমের ফাঁদে জিম্মি করে টাকা আদায়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচার করে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাদী অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন জুয়েল নারী ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, ধর্ষণ মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করেন।
বাদীর অভিযোগ, প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মিথ্যা। তিনি একজন ভুক্তভোগী নারীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেছেন, কিন্তু কাউকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত নন। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট বা দালিলিক প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি। এমন মানহানিকর সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে তার ৫ কোটি টাকার মানহানি করা হয়েছে।


