‘সড়ক দুর্ঘটনা সহায়তা কেন্দ্র’ চালু করছে অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন

‘সড়ক দুর্ঘটনা সহায়তা কেন্দ্র’ চালু করছে অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন
মগবাজারে এএবির সচেতনতামূলক কর্মসূচি। ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ‘সড়ক দুর্ঘটনা সহায়তা কেন্দ্র’ চালু করতে যাচ্ছে অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এএবি)। এ কেন্দ্র থেকে কাউন্সেলিং, চিকিৎসা, আইনি পরামর্শ, বিমা দাবি নিষ্পত্তিতে সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় তথ্য ও আর্থিক সহায়তাসহ ছয় ধরনের সেবা দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে এএবির প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে এ তথ্য জানানো হয়।

‘নিরাপদ সড়ক, সমৃদ্ধ দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে দিবসটি পালন করে সংস্থাটি। এ উপলক্ষে ‘আইন মেনে চলব, নিরাপদে ঘরে ফিরব’ স্লোগানে ‘এএবি জিরো কন্ট্যাক্ট প্রচার’ চালানো হয়।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন এএবির সভাপতি আজমালুল হোসেন কেসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সাইদুল ইসলাম।

এএবি জানায়, সড়ক দুর্ঘটনার পর দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া, জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর দেওয়া এবং আহত ব্যক্তিকে নিরাপদে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের ও তাদের পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই সড়ক দুর্ঘটনা সহায়তা কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

এ কেন্দ্র থেকে পেশাদার কাউন্সিলরদের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সহায়তা, দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ, চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শ ও সহযোগিতা এবং আইনজীবীদের মাধ্যমে আইনি পরামর্শ ও প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিমার দাবি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহযোগিতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

দিবসটি উপলক্ষে এএবি দেশের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর অংশ হিসেবে এএবির কার্যালয় থেকে সড়ক নিরাপত্তা র‍্যালি বের করা হয়। বাস, রাইড শেয়ারিং ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালক এবং রিকশা ও সিএনজিচালকদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট ও আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল ফেডারেশনের (এফআইএ) সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক ‘গোল্ডেন রুলস’ কার্ড বিতরণ করা হয়।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লায় এএবির সড়ক নিরাপত্তা অ্যাম্বাসেডরেরা স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

বিদ্যালয় পর্যায়েও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। এএবির উদ্যোগে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নয়টি কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ১ হাজার ৬৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ট্রাফিক আইন মেনে চলা, হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রিত গতিতে যানবাহন চালানোর মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad