জুবায়ের তানিন, আবু ধাবি থেকে
ম্যাচ খেলছে শ্রীলঙ্কা আর আফগানিস্তান। গ্যালারিতে দুই দেশের সমর্থকদের ঢল। কিন্তু কিছু বাংলাদেশি সমর্থকও এসেছেন খেলা দেখতে। এমনকি আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের প্রেস বক্সেও শ্রীলঙ্কার চেয়ে বাংলাদেশি সাংবাদিকের সংখ্যাই বেশি। একটু অদ্ভুতই ঠেকছে, না?
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এশিয়া কাপের ‘বি’ গ্রুপের ভিনদেশি দুই দলের ম্যাচ হলেও বাংলাদেশের নজর ছিল আবু ধাবিতে। কারণ এই ম্যাচের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছিল বাংলাদেশের সুপার ফোর ভাগ্য। সমীকরণ সহজ, আফগানিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার জয়। সেটার জন্যই গত দুদিন থেকে বাংলাদেশ দল আর সমর্থকদের তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা। অবশেষে এলো সেই জয়, আফগানিস্তানের দেয়া ১৭০ রানের লক্ষ্য ৮ বল হাতে রেখে ৪ উইকেট হারিয়ে টপকে গেল লংকানরা। তাদের ৬ উইকেটের জয়ে বাংলাদেশ উঠল সুপার ফোরে।
অবশ্য শ্রীলঙ্কা সুপার ফোর নিশ্চিত করে ফেলেছিল আগেই। আফগানিস্তানের দেয়া ১৭০ রান তাড়া করতে নামার আগেই টানা দুই ম্যাচ জেতা শ্রীলংকা জেনেছিল, সুপার ফোরে যেতে তাদের ১০১ রান করলেই হবে, ম্যাচ হারলে সেটার প্রভাব থাকবে না। তবে বাংলাদেশ চাচ্ছিল ম্যাচটা যেন শ্রীলঙ্কা জেতে, যাদের সাথে গেল সাত বছরে একটা দ্বৈরথই গড়ে উঠেছে। ২০১৮ সালের পর থেকে যতবার বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা খেলেছে, ততবারই এসেছে ‘নাগিন ডার্বি’ শব্দটা। অবশেষে এই ‘শত্রু’ শ্রীলঙ্কার
আফগানিস্তানের দেয়া ১৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই জয়ের জন্য ব্যাট করছিল শ্রীলঙ্কা। ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কার সাথে নাম্বার থ্রি কামিল মিশারা সিংগেল ডিজিটে আউট হলেও কুশাল মেন্ডিস টিকে ছিলেন শেষ পর্যন্ত। মিডল ওভারে আফগান স্পিনারদের সামলে কুশাল তৃতীয় উইকেটে ৪৫ রানের জুটি গড়েছেন কুশাল পেরেরার সাথে। এই জুটিতেই লড়াইয়ে ভালোভাবে ফিরেছে লংকানরা। ১৭-তম ফিফটিতে দলকে নিয়ে গেছেন জয়ের বন্দরে।
যদিও এটাকিং ক্রিকেট খেলতে অভ্যস্ত তিনি, তবুও আজ খেলেছেন রয়েসয়ে, একপ্রান্ত আঘগলে রেখে। শেষ বলে চার মেরে নিশ্চিত করেছেন দলের জয়, একইসাথে বাংলাদেশকে তাদের সাথে নিয়ে গেছেন সুপার ফোরে। ৫২ বলে ৯ চারে করেছেন ৭২* রান। শেষদিকে দুই ছক্কায় ১৩ বলে ২৬ রান করেছেন কামিন্দু মেন্ডিস।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে নুয়ান থুসারার তোপে ৭৯ রানে প্রথম ছয় ব্যাটারকে হারায় আফগানিস্তান। নতুন বল হাতে এই পেসার একাই ধসিয়ে দেন আফগানদের টপ অর্ডার। প্রথম স্পেলে টানা তিন ওভার করে মাত্র ১২ রান দিয়ে নেন তিন উইকেট। তার মধ্যে দুই আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ, সেদিকউল্লাহ আতালের সাথে আছেন করিম জানাতও। চার উইকেটের তিনটিই নিয়েছেন বোল্ড করে, স্টাম্প উপড়ে। শেষ শিকার রশিদ খান।
থুসারার তোপে পথ হারালেও মোহাম্মদ নবীর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ পায় আফগানিস্তান। ঠিক কতটা বিধ্বংসী ছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটার? প্রথম ইনিংসে শেষ চার ওভারে ৬৪ রান তুলেছে আফগানিস্তান, এর মধ্যে ৩২ রানই এসেছে দুনিথ ভেল্লালাগের করা শেষ ওভার থেকে। সেই ওভারে টানা পাঁচ ছক্কায় ফিফটি পূরণ করেছেন অভিজ্ঞ নবী ৩২ বলে। তিন চার ও ছয় ছক্কায় ২২ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
অথচ নবী জীবন পেয়েছিলেন ব্যক্তিগত এক রানে। দুশমন্থ চামিরার বলে স্কয়ার লেগে পুল করলে ক্যাচ উঠে। তার হাতে শেষ ওভারে বেধড়ক মার খাওয়া ভেল্লালাগে এর আগে সেখানে লাফিয়ে উঠে বলে হাত ছোঁয়ালেও শেষ পর্যন্ত তালুবন্দী করতে পারেননি।
যদিও শুরুর দিকে বেশ দারুণ ফিল্ডিং করেছে শ্রীলংকা। বাউন্ডারি লাইনে দুশমন্থ চামিরা, কুশাল পেরেরা দারুণ দুটো ক্যাচও ধরেছেন। অবশ্য একটা ড্রপ ক্যাচের পর সেই সুযোগটা কী দারুণভাবেই না কাজে লাগালেন নবী। ৭৯ রানে ৬ উইকেট হারানো দলকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেলেন ১৭০-এর কাছে। একটি করে উইকেট পেলেও খরুচে ছিলেন চামিরা ও ভেল্লালাগে।


