ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের নামে থাকা ৫টি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়ায় সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন ডাকসুর ৫ সিনেট সদস্য।
সোমবার রাতে সিনেট অধিবেশন চলাকালে উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের অনুরোধ উপেক্ষা করে তারা এই ওয়াকআউট করেন।
ওয়াকআউট করা সদস্যরা হলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না।
ডাকসু ও শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ পরিবারের নামে থাকা ৫টি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সিনেটে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। স্থাপনাগুলো হলো শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার এবং ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির শহীদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেল।
সিনেট অধিবেশনে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি এজেন্ডা হিসেবে উত্থাপন করেন উপাচার্য। পরে সিনেট সদস্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান যথাযথ প্রক্রিয়া বজায় রাখার স্বার্থে বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে অধ্যাপক সামিনা লুৎফা নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে আপত্তি প্রকাশ করেন।
ডাকসু প্রতিনিধিরা জানান, শেখ পরিবারের নামে থাকা স্থাপনার কারণে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শেখ মুজিবুর রহমান হলের ব্যানার নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে এবং হলের ক্লাবগুলো কোনো স্পন্সর পাচ্ছে না। ডাকসু জিএস নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সিন্ডিকেটে পুনরায় পাঠাতে হলে নির্দিষ্ট ফিডব্যাকসহ পাঠানোর দাবি জানান।
ডাকসু ভিপি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর সরকার শেখ পরিবারের ৮ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করেছে। নাম পরিবর্তন করে বীরশ্রেষ্ঠসহ অন্য নামগুলো বিবেচনায় আনা যেতে পারে। এ ছাড়া সিনেট সদস্য ফজলুল হক মিলন শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে নামকরণের দাবি জানান। আলোচনার শেষ পর্যায়ে উপাচার্য বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


