ধর্ষণ মামলার আসামি হওয়ার পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কারা ওয়ার্ড থেকে আদালতে না যেতে ভান করার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়ার বিরুদ্ধে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রের দাবি, জিসানের গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে আদালতে হাজিরা এড়াতে তিনি অসুস্থতার ভান করে শুয়ে আছেন। এমনকি রবি ও সোমবার- টানা দুই দিন ধরে তিনি চোখ বন্ধ রেখেছেন।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, জিসান শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। চিকিৎসক বা সংবাদকর্মীরা তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি চোখ বন্ধ রেখেই কথা বলেন।
গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে জিসান ‘নিখোঁজ’ হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়। শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় ‘অচেতন’ অবস্থায় জিসানকে উদ্ধার করা হয়।
জিসান নিখোঁজ হওয়ার পর জামায়াতের আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জিসানকে গুম করার অভিযোগ তুলেছিলেন। পরে জানা যায়, এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্কও ছিল এবং এক পর্যায়ে সেই নারী সন্তানসম্ভবা হয়ে যান। পরে ভ্রূণ নষ্ট করে দেন জিসান।
পুলিশ বলছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। সেই নারী বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা করেন সেই নারী, যাতে আসামি করা হয়েছে মোট চারজনকে।
সেই মামলায় শিবির নেতাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এরপর তাকে বহিষ্কার করে ছাত্র শিবির। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন আছেন জিসান।
তার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সোমবার মেডিকেল বোর্ডের সভা শেষে জিসানকে সুস্থ ঘোষণা করা হলেও ছাড়পত্র না পাওয়ায় আদালতে নিতে পারছে না পুলিশ।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শাহাজাহান বলেন, প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোনো জটিলতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শামসুল আলম শাহ বলেন, ‘হাসপাতালের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জিসানকে আদালতে নেওয়া হবে।’
গত শনিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মামলার বাদী ওই নারীকে বিয়ে এড়াতে জিসান অপহরণের ‘নাটক’ সাজিয়েছিলেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।


