নির্বাচনে বিজয়ী হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। ইশতেহারে মেয়েদের স্নাতকোত্তর এবং ছেলেদের স্নাতক বা সমমান পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলেও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষাখাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ, মাধ্যমিক পর্যায়ে বাধ্যতামূলকভাবে তৃতীয় ভাষার শেখানো এবং সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে করমুক্ত রাখা, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুলড্রেস দেওয়া, আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিতে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া, মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে ৪৩টি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে ইশতেহারে।
শুক্রবার বিকালে ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ইশতেহারে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে- কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, জাপানিজ, কোরিয়ান, ইতালিয়ান, ম্যান্ডারিন ইত্যাদি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা মাধ্যমিক পর্যায় থেকে চালু করা হবে।
শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যে ক্লাস সিক্স থেকে দলগত কাজ, পার্সোনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট, পারিবারিক-সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে আনন্দময় করে তোলা হবে।
কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রসঙ্গে ইশতেহারে বলা হয়েছে, আত্মকর্মসংস্থান এবং দেশ ও বহির্বিশ্বে চাকরির সুযোগ তৈরিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষ এবং যোগ্য করে গড়ে তুলতে মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। সিলেবাস এমনভাবে সাজানো হবে যেন একটি পরিবার যদি তার সন্তানকে এসএসসি কিংবা ইন্টারমিডিয়েটের বেশি না পড়াতে পারে, তাহলে সেই শিক্ষা দ্বারাই যেন সে নিজের জন্য কর্মসংস্থান করে নিতে পারে।
এ ছাড়াও ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধি, গবেষণায় গুরুত্বারোপ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ক্ষমতায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমস্যা দূরীকরণ ও মানোন্নয়ন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষকদের অবসর ভাতা পাওয়া বিষয়গুলো সহজ করা, টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান, সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথ উন্মুক্ত করা, কওমি সনদ স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বাধা দূরীকরণ, কুরআনের হাফেজদের সম্মান ও স্বীকৃতি প্রদান, সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদান, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ঋণ দেওয়া ও ব্যাংক ঋণের জটিলতা দূরীকরণ প্রভৃতি উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বিএনপির ইশতেহারে।


