ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের মধ্যে নওগাঁর একই গ্রামের বাসিন্দা ছয়জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে জেলার মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়।
এর আগে, সোমবার ভোর ৪টার দিকে সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১০ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়, যারা সবাই পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার উদ্দেশে বাড়ি ফিরছিলেন।
ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল থেকে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে মরদেহগুলো মান্দার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে এসে পৌঁছালে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নওগাঁর বাকি চারজনের জানাজা ও দাফন ভোরে নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে সম্পন্ন করা হয়েছে।
সকালে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহতদের এক নজর দেখতে এবং শেষ বিদায় জানাতে ভিড় করেছেন আশেপাশের কয়েক গ্রামের হাজারো মানুষ ও প্রতিবেশীরা। স্বজনদের বুকফাটা কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে রাজেন্দ্রবাটি গ্রাম।
জানাজায় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাজাহান, নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারি টিপু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আখতার জাহান সাথী এবং মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
বজলুর রশিদ বলেন, ‘একই গ্রাম থেকে ছয়জন মানুষের একসঙ্গে চলে যাওয়া অত্যন্ত মর্মাহত করেছে। এই দুর্ঘটনায় সবাই গভীরভাবে শোকাহত। নিহত পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রতি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।’
দুর্ঘটনায় নওগাঁর নিহত ১০ জনের মধ্যে মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের বাসিন্দা সাতজন, পাকুড়িয়া গ্রামের দুইজন এবং নিয়ামতপুর উপজেলার একজন রয়েছেন। তারা হলেন মান্দা উপজেলার সাকিম মিয়ার ছেলে মো. সাগর মিয়া (২০), একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), আব্দুর রশিদের ছেলে মো. বারিক (২১), আব্দুর রহিমের ছেলে বাদশা (৩২), রাজেন্দ্রবাটি এলাকার একাব্বর আলীর ছেলে ইয়াকুব (২০), একই এলাকার সুলতানের ছেলে তারেক (২০) এবং জাফরের ছেলে মাইনুল (৩৫)। এ ছাড়া মান্দার পাকুড়িয়া গ্রামের রশিদের দুই ছেলে গিয়াস (২০) ও তার ভাই মাইনুল (২৮) এবং নিয়ামতপুর উপজেলার রামগা এলাকার সুজন (৩৫)।


