অঘোষিত স্বর্ণ, হীরা ও রৌপ্য বৈধ করতে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে একটি কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সংগঠনটির এই বাজেট প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট হারে কর নিয়ে এককালীন সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে খাতটির অনিবন্ধিত মজুতকে আইনি কাঠামোয় আনা যেতে পারে।
বাজুসের প্রস্তাব অনুযায়ী, স্বর্ণের ক্ষেত্রে প্রতি ভরি ১ হাজার টাকা, হীরার ক্ষেত্রে প্রতি ক্যারেট ৪ হাজার টাকা এবং রৌপ্যের ক্ষেত্রে প্রতি ভরি ৫০ টাকা কর নির্ধারণ করে ঘোষণাবহির্ভূত মজুত বৈধ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
সংগঠনটির মতে, এতে খাতটি আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আসবে এবং রাজস্ব আহরণ বাড়তে পারে।
বাজুস সভাপতি এনামুল হক দোলন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, দেশের বিভিন্ন পরিবারে বংশপরম্পরায় পাওয়া স্বর্ণের একটি বড় অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শিত নয়, যদিও তা নিয়মিত বাজারে আসছে। কয়েক লাখ ভরি সোনা মানুষের ঘরে রয়েছে, যা বংশপরম্পরায় পাওয়া।
‘নগদ টাকার প্রয়োজনে এসব মজুদ থেকে দিনে গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার ভরি স্বর্ণ বাজারে আসে, যা পরিশোধিত হয়ে পিওর গোল্ড হয় এবং পরে অলংকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, কিন্তু পদ্ধতিগত কারণে এই বিপুল স্বর্ণ প্রদর্শনের সুযোগ নেই। এই স্বর্ণকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শনের সুযোগ দিতে একটি কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। সরকারের কাছে এই স্বর্ণ প্রদর্শনের জন্য একটি কাঠামো তৈরির দাবি জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি আরেকটি আয়কর মেলার মাধ্যমে বাজারে থাকা অপ্রদর্শিত স্বর্ণ নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে সর্বশেষ এমন একটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তিনি যোগ করেন।
বাজুসের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের আগে বৈধ আমদানি চ্যানেলের সীমাবদ্ধতার কারণে জুয়েলারি খাতের একটি বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে ছিল।
এই প্রেক্ষাপটে অনিবন্ধিত মজুতকে মূলধারায় আনতে এককালীন সাধারণ ক্ষমাকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা ব্যাংকিং ও ঋণ সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন এবং খাতটি আরও স্বচ্ছ ও নথিভুক্ত হবে। একই সঙ্গে তাদের মতে, বৈধ উৎস থেকে স্বর্ণ সংগ্রহের সুযোগ বাড়লে চোরাচালান নিরুৎসাহিত হতে পারে।
তবে প্রস্তাবে অঘোষিত স্বর্ণ বা হীরার মোট পরিমাণ, সম্ভাব্য রাজস্ব আহরণ কিংবা বাস্তবায়ন কাঠামোর বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। একই প্রস্তাবে বাজুস কর কাঠামোয় কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে।
তারা ন্যূনতম কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, সরবরাহের ওপর ৫ শতাংশ উৎসে আয়কর প্রত্যাহার এবং ভ্যাট ব্যবস্থাকে সহজ করার প্রস্তাব দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বাজুসের এই প্রস্তাব জুয়েলারি খাতকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনা এবং কর ব্যবস্থাকে সহজ করার উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে।


