পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টা অবশেষে ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তরেখার জিরো পয়েন্টে আটকে পড়া শিশুসহ ১০ জন নারী-পুরুষকে চার দিনের মাথায় ফেরত নিয়ে গেছে বিএসএফ।
রোববার দিনগত রাতে কয়েক দফায় সীমান্তের ফ্লাডলাইট বন্ধ করে ওই ১০ জনকে ভারতীয় ভূখণ্ডের ভেতরে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের নিয়ে যাওয়ার পর আবারও সীমান্তের লাইট চালু করে বিএসএফ।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি ও সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোরে বিএসএফ ওই ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তীব্র বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। এরপর বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে দীর্ঘ চার দিন ধরে ওই ১০ জন শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে আটকে ছিলেন।
সর্বশেষ গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে বিএসএফ আবারও ভারতের অংশের শূন্যরেখা থেকে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিজিবির অনড় ও কঠোর অবস্থানের মুখে অবশেষে গভীর রাতে বিএসএফ কৌশল বদলে তাদের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
বিজিবি জানায়, শূন্যরেখায় আটকে থাকাদের বিএসএফ ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেও সীমান্তে বিজিবির টহল ও সতর্ক অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে জেলার বিভিন্ন সীমান্তে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।


