শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে দেশে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ। শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, সেই রাজনীতি হতে হবে গঠনমূলক।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের আয়োজিত জাতীয় বিতর্ক উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের এই আহ্বান জানান।
এসময় এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, ‘দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার জন্য এবং সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য সাংস্কৃতিক বিপ্লবটা জরুরি। আমরা যে সমস্যাটার মুখোমুখি হয়েছি স্বাধীনতার পরে, কারণ সাংস্কৃতিক বিপ্লবটা হয় নাই। ১৯৯০ এর গণআন্দোলনের পরেও হয়নি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরেও সাংস্কৃতিক বিপ্লবটা হয়নি। আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের মাধ্যমে সারাদেশে এটা করতে চাই।’
তেজগাঁও কলেজ ডিবেটিং ক্লাব আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় কলেজ পর্যায়ের ৩২টি এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৩২টি দলসহ মোট ৬৪টি দল অংশ নেয়।
শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির বিষয়ে এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘রাজনীতিও থাকবে। কিন্তু সেই রাজনীতি হতে হবে গঠনমূলক। রাজনীতির বাহিরে তো কেউ নাই। শিক্ষকরা যখন কলেজে ঢুকবেন তখন প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কাজগুলো করবেন। আপনার প্রতিষ্ঠানটা যাতে ভালো চলে, সেভাবে আপনারা কাজ করবেন। শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করবেন। এটাই শিক্ষাঙ্গনের রাজনীতি হওয়া উচিত।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মন ছোট না করার আহ্বান জানিয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার ডেভেলপ করার দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন এই অধ্যাপক।
এসময় তিনি বলেন, ‘গ্রামীণফোনের সিইও যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রাজুয়েট হতে পারে, প্রধান বিচারপতি যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হতে পারে; সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হতে পারেন- তাহলে আমি কেন নয়? প্রতিটি শিক্ষার্থীর এই প্রত্যয় থাকতে হবে।’
‘আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়া ব্যাংক বীমা ইনস্যুরেন্স একদিনও চলে না, দেশের প্রথম সারির বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলো একদিনও চলে না, ফাইনান্সিয়াল মার্কেট একদিনও চলে না। দেশের ৮০ শতাংশের বেশি চাকরি বেসরকারি খাতে। এই খাতের ৮২ থেকে ৮৩ শতাংশ গ্রাজুয়েট হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের। তাই মন ছোট করার কোনো কারণ নেই। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজার বৃদ্ধির স্বার্থে ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়ার সম্পর্ক তৈরি করছি, যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে’, যোগ করেন তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিদেশি ভাষা শেখানো, কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করে কাজ শেখানো, ম্যাট্রিক্স শেখানো, ডাটা অ্যানালাইসিস ও ডাটা সায়েন্স শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান উপাচার্য।
দেশের সব জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের ওপরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বড় করে লিখতে হবে- এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট। আমি তাকে বাংলাদেশে আসতে বলেছি। তাকে আমরা অন্তত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০টা কলেজে পাঠাব। আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।’


