ঢাকার সাভারে একটি পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মরদেহ দুটি একজন নারী ও এক ছেলে শিশুর।
রোববার দুপুরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় কয়েকজন শিশু-কিশোর ও সাভার কলেজের এক শিক্ষার্থী কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে মরদেহ দুটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের বিষয়টি জানায়। পরে জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করা হলে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। মরদেহ দুটি আগুনে পোড়া থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, প্রায় পাঁচ মাসে একই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার থেকে এ নিয়ে মোট পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
একের পর এক অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সম্রাট নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সাইদুল ইসলাম দাবি করেছেন, আটক সম্রাট ভবঘুরে হলেও সিরিয়াল কিলার হতে পারেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সম্রাট সাভার থানার আশপাশে বেশ কয়েক বছর ধরে ঘোরাফেরা করেছে।
এর আগে, ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে সাভার মডেল থানা পুলিশ সাভার পৌর এলাকার থানার কাছের একটি কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে।
গত ১১ অক্টোবর রাতে আবারও সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অজ্ঞাত (৩০) এক নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ছাড়া, গত বছরের ২৯ আগস্ট রাতে একই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে ওই নিহত যুবকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
একাধিক ঘটনায় মরদেহ উদ্ধারের পরও নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, থানার কাছাকাছি অবস্থান হলেও পরিত্যক্ত ভবনটিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


